Sunday, November 28, 2010
যৌবনের প্রথম আকুতি্ . . . . . .
চেয়ে দেখ উঠেছে নতুন সূর্য
সূর্যোদয় হল নতুন ক্ষনের
নতুন প্রভাতের সুরভিত সৌন্দর্যে
চেয়ে দেখ সাতরঙ্গা ধনুর খেলা
তুমি মেঘের বালিশে তনু এলিয়ে
ধ্রুবতারার গহীন এই চাতক চোখে চাও_
এস প্রিয়া
এই প্রসারিত হাত ছুয়ে যাও
তোমার হূদয় উষ্ষতায়
ধ্রুবতারার বাধভাঙ্গা ভালবাসা স্রোতে
ভেসে যাক জীবনের সব বিষন্ন অধ্যায়
বুকে জমানো কষ্ট, বেদনা, অপূর্নতা, নিরবতা
পদ্মজল হয়ে ঝরে পড়ুক ধরায়
আধারে সিদ কেটে এস আমার কাছে
সাথে নিয়ে দীপ্তিময় উষ্ষতা
কষ্ট দুঃখের পাতাটা উল্টে দেখ
কৃষ্ষচুড়ার জোছনা সিক্ত চাদোয়া
বিছানো হৃদয় নীলিমা জুড়ে_
হে অনামিকা
চেয়ে দেখ ধ্রুবতারার নয়ন পানে
কৃ্ষ্ষবিবর, প্রেমের স্বাপ্নিক আহ্বানে
তোমার জীবনের অনাগত ক্ষনকে
স্বাগত জানাচ্ছে আপ্লুতোভাবে
অবগাহন করো প্রিয়তমা ।।
Friday, November 26, 2010
নিরালা
বর্তমানে মুক্তকচ্ছ, ভবিষ্যৎ হোঁচটে ভরা,
মাঝে মাঝে মনে হয়,
দুর্মুখ পৃথিবীকে পিছনে রেখে
তোমাকে নিয়ে কোথাও স’রে পড়ি |
নদীর উপরে যেখানে নীল আকাশ নামে
গভীর স্নেহে,
শেয়াল-সংকুল কোনো নির্জন গ্রামে
কুঁড়েঘর বাঁধি ;
গোরুর দুধ, পোষা মুরগির ডিম, খেতের ধান ;
রাত্রে কান পেতে শোনা বাঁশবনে মশার গান ;
সেখানে দুপুরে শ্যাওলায় সবুজ পুকুরে
গোরুর মতো করুণ চোখ
বাংলার বধূ নামে ;
নিরালা কাল আপন মনে
পুরোনো বিষণ্ণতা হাওয়ায় বোনে |
Thursday, November 4, 2010
শুধু তোমায় ভেবে ভেবে, কত দিন রাত গেছে বয়ে!
শুধু তোমায় ভেবে ভেবে,
কত দিন রাত গেছে বয়ে!
তুমি এসেই চলে গেছো,
শুধু ভোরের স্বপ্ন হয়ে!
তুমি না লেখা কোনো কবিতায়
যেন অনেক বলা কথা,
তুমি দগ্ধ দিনের পরে
নীল রাতের নীরবতা!
তুমি না পাওয়া যন্ত্রণা
আজ আমার গেছে সয়ে,
তুমি এসেই চলে গেছো,
শুধু ভোরের স্বপ্ন হয়ে!
তুমি বৃষ্টি থামার পরে
ভেজা সুখের রিনিরিন,
তুমি চৈত্র শেষের ঝড়ে
যেন দমকা হাওয়ার দিন!
তুমি মিথ্যে প্রতিশ্রুতি,
আমি বেড়াই বুকে নিয়ে!
তুমি এসেই চলে গেছো,
শুধু ভোরের স্বপ্ন হয়ে!
শুধু তোমায় ভেবে ভেবে,
কত দিন রাত গেছে বয়ে!
তুমি এসেই চলে গেছো,
শুধু ভোরের স্বপ্ন হয়ে!
শুধু তোমায় ভেবে ভেবে!
Tuesday, November 2, 2010
মেঘ দেখার দুঃখ, গোলাপ দেখার ব্যাকুলতা
কী করে বলি এই মেঘ দেখর দুঃখ, এই গোলাপ দেখার
ব্যাকুলতা-
কিন্তু আমিও যখন মেঘের দিকে তাকাই দেখি কালিদাসই
দেখছেন বিরহী যক্ষকে,
হঠাৎ মন ভরে যায় বহু যুগের ওপার থেকে আসা বর্ষণে:
এই গোলাপ দেখর কথা আমার হয়তো বলাই হবে না
কিন্তু যখান গোলাপের দিকে তাকাই দেখি ব্রেক
তাকিয়ে আছেন গেলোপের রুগ্নতার দিকে,
কিংবা রিলকে আয়ত্ত করে চলেছেন একটি শ্বেতগোলাপ,
কী করে বলি এই মেঘ দেখার দুঃখ, এই
গোলাপ দেখার ব্যাকুলতা!
মেঘ দেখতে দেখতে আমি যে কখন মেঘদূতের ভেতর ডুবে যাই,
বিরহকাতর যক্ষের জন্য ভারী হয়ে ওঠে এই বুক
কিংবা গোলাপের দিকে তাকাতেই চোখে ভেসৈ ওঠে
রিলকের মুখটি,
এই মেঘ দেখার দুঃখ, এই গোলাপ দেখার ব্যাকুলতা
কাউকে বলাই হবে না ;
আমি যখন এই প্রকৃতির দিকে তাকাই দেখি রবীন্দ্রনাথ
দেখছেন প্রকৃতির নীলাম্বরী
সেই ব্যকুল বসন্তে আমারও দুচোখ জলে ভরে যায় -
এই মেঘ, এই গোলাপ আমারও অলিখিত কবিতা।
যখন মানুষের সুদ্ধতার কথা ভাবি দেখি দাঁড়িয়ে আছেন
ব্যথিত বোদলেয়ার
শহরের রাত্রির দিকে তাকালে মনে হয় জীবনানন্দ দাশ দেখছেন
লিবিয়ার জঙ্গল,
যখন একজন বিপ্লবীর দিকে তাকাই দেখি দুচোখে
মায়াকোভস্কির স্বপ্ন
আর্ত স্বদেশের দিকে তাকিয়ে আমিও নেরুদার কথাই ভাবি,
কেউ জানে না একটি ফুলের মৃত্যু দেখে, একটি পাখির ক্রন্দন দেখে
আমারও হৃদয় পৃথিবীর আহত কবিদের মতোই হাহাকার
করে ওঠে।
একটি ফুল দেখে আমিও একজন প্রেমিকের মতোই পরাজিত
হতে ভালোবাসি
একটি ঝরাফুলের দুঃখ বুকে নিয়ে যে-কোনো ব্যথিত কবির
মতোই সারাদনি ঘুরে বেড়াই,
আসলে সে-কথাগুলোই বলা হয়নি, বলা হয়নি;
মানুষের সমাজে এই বৈষম্য দেখে আমিও একজন
বিপ্লবীর মতোই শ্রেনীসংগ্রামের জন্য তৈরি হই,
এই জরা বার্ধক্য দেখে কতোবার বুদ্ধের মতোই
ব্যথিত হয়ে উঠি;
কিন্তু কী করে বলবো এইসব মেঘ দেখার দুঃখ, এইসব
গোলাপ দেখার ব্যাকুলতা!
ফুটেছে ফুল, বিরহী তবু চাঁদ
----– মহাদেব সাহা
ফুটেছে ফুল ঠোঁটের মতো লাল
আকাশে চাঁদ বিরহী চিরকাল;
কে যেন একা গাইছে বসে গান
সন্ধ্যা নামে, দিনের অবসান।
দুর পাহাড়ে শান্ত মৃদু পায়ে
রাত্রি নামে স্তব্ধ নিঝুম গাঁয়ে;
শূন্যে ভাসে মেঘের জলাশয়
এই জীবনে সবকিছুই তো সয়।
বিরহী চাঁদ মোমের মতো গলে
বুকের মাঝে কিসের আগুন জ্বলে;
মন পড়ে রয় কোন অজানালোকে
নিজেকেই সে পোড়ায় নিজের শোকে।
ফুটেছে ফুল ঠোঁটের মতো লাল
বিরহী চাঁদ বিরহী চিরকাল;
ফুটেছে ফুল বিরহী তবু চাঁদ,
বাইরে আলো, ভেতরে অবসাদ।
চিঠি দিও
করুণা করে হলেও চিঠি দিও, খামে ভরে তুলে দিও
আঙ্গুলের মিহিন সেলাই
ভুল বানানেও লিখো প্রিয়, বেশি হলে কেটে ফেলো তাও,
এটুকু সামান্য দাবি, চিঠি দিও, তোমার শাড়ির মতো
অক্ষরের পাড়-বোনা একখানি চিঠি।
চুলের মতন কোনো চিহ্ন দিও বিস্ময় বোঝাতে যদি চাও …
বর্ণণা আলস্য লাগে তোমার চোখের মতো চিহ্ন কিছু দিও!
আজো তো অমল আমি চিঠি চাই, পথ চেয়ে আছি,
আসবেন অচেনা রাজার লোক
তার হাতে চিঠি দিও, বাড়ি পৌঁছে দেবে ….
এমন ব্যস্ততা যদি শুদ্ধ করে একটি শব্দই শুধু লিখো, তোমার কুশল! …
করুণা করে হলেও চিঠি দিও, ভুলে গিয়ে ভুল করে একখানি চিঠি
দিও খামে
কিছুই লেখার নেই তবু লিখো একটি পাখির শিস
একটি ফুলের ছোট নাম,
টুকিটাকি হয়তো হারিয়ে গেছে কিছু, হয়তো পাওনি খুঁজে
সেইসব চুপচাপ কোন দুপুরবেলার গল্প
খুব মেঘ করে এলে কখনো কখনো বড় একা লাগে, তাই লিখো
করুণা করে হলেও চিঠি দিও, মিথ্যা করে হলেও বোলো, ভালবাসি !
আদিবর্ষা
আমার শৈশব খুব বৃষ্টিময়, সেই অঝোর বৃষ্টিতে কাঙ্গালের মতো
দেখেছি বর্ষার মেঘ, এই বৃষ্টি ছিলো
প্রকৃতির আদিবর্ষা, তারই কাছে নিয়েছি প্রেমের পাঠ
মন হুহু করা অনন্ত বিষাদরাশি পেয়েছি বর্ষার কাছে,
শিখেছি মেঘের কাছে পাহাড়ি মেয়ের
খিলখিল হাসির মতো জলের কথক নৃত্য;
এই ছিলো আমার শৈশব, কাজলাদিদির জন্য বালিশ ভেজানো কান্না
বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দ আমি তার অর্থ বুঝি না
সেই শৈশবের বৃষ্টি ও বর্ষায় আজো আমি উত্থাল উম্মাদ -
আজো আমি আকাশের কাছে করজোড়ে ক্ষমা ভিক্ষা চাই,
কিছুই নেই, দুফোঁটা চোখের জল জমা রাখি অনন্তের কাছে;
এই বর্ষায় বিষাদে আদিগন্ত ঘরে দেখি আকাশের
গায়ে লেখা মেঘদূত সেই বিরহের বিধুর কবিতা
আমি সেই স্বপ্নাতুর বালকের মতো আজো শৈশবের
অঝোর বৃষ্টিতে ভিজে উতোল বর্ষায় ভেসে যাই।
এই জীবনে
এই জীবনে হবে না আর মূলে যাওয়া,
চুড়োয় ওঠা-
কাটবে জীবন পাদদেশে, পাদমূলে;
খুব ভেতরে প্রবেশ করা হবে না আর এই জীবনে
হবে না আর ভেতর মধু ফের আহরণ,
হবে শুধুই ওপর ছোঁয়া, ওপর দেখা।
এই জীবনে হবে না আর তোমার নিবিড়
স্পর্শ পাওয়া,
হবে না এই নদী দেখা, জলাশয়ের
কাছে যাওয়া,
একটিবার তোমায় নিয়ে হ্রদের জলে একটু নামা-
হবে না আর পৌঁছা মোটেই ডুব-সাঁতারে
জলের গহীন তলদেশে,
জলে নামা, সাঁতার শেখা;
মূলের সঙ্গে হবে না আর ঠিক পরিচয়
মাত্র এখন অনুবাদের অর্ধ স্বাদেই তৃপ্ত থাকা,
এই জীবনে হবে না আর আকাশ দেখা,
চিবুক ছোঁয়া-
তোমায় নিয়ে নীল পাহাড়ে ঘুরতে যাওয়া;
এই জীবনে হবে না আর তোমার গোপন দেখা পাওয়া,
একন শুধু চোখের জলে দুঃখ পাওয়া,
নিজের মাঝেই ফুরিয়ে যাওয়া, ফুরিয়ে যাওয়া।
এই জীবনে হবে না আর দুঃখ কারো
মোচন করা,
কারো অশ্রু মুছিয়ে দেয়া সাঁকো বাঁধা,
কারো ক্ষত সারিয়ে তোলা;
এই জীবনে হবে না আর মুগ্ধ ভ্রমণ,
কারো ক্ষত সারিয়ে তোলা;
এই জীবনে হবে না আর মুগ্ধ ভ্রমণ,
মূলে যাওয়া-
তোমায় ছোঁয়া।
এ জীবন আমার নয়
এ জীবন আমার নয়, আমি বেঁচে আছি
অন্য কোনো পাখির জীবনে,
কোনো উদ্ভিদের জীবনে আমি বেঁচে আমি
লতাগুল্ম-ফুলের জীবনে;
মনে হয় চাঁদের বুকের কোনো আদিম পাথার আমি
ভস্মকণা,
ভাসমান একটু শ্যাওলা আমি;
এই যে জীবন দেখছো এ জীবন আমার নয়
আমি বেঁচে আছি বৃক্ষের জীবনে,
পাখি, ফুল, ঘাসের জীবনে।
আমি তো জন্মেই মৃত, বেঁচে আছি
অন্য এক জলের উদ্ভিদ-
আমার শরীর এইসব সামদ্রিক প্রাণীদের
সামান্য দেহের অংশ,
আমি কোটি কোটি বছরের পুরাতন একটি
বৃক্ষের পাতা
একবিন্দু প্রাণের উৎস, জীবনের
সামান্য একটি কোষ;
এ জীবন আমার নয় আমি সেইসব অন্তহীন
জীবনের একটি জীবন,
আমি বেঁচে আছি অন্য জীবনে, অন্য
স্বপ্ন-ভালোবাসায়।
তোমাকে ছাড়া
তুমি যখন আমার কাছে ছিলে
তখন গাছের কাছে গেলে আমার ভীষণ আনন্দ বোধ হতো
লতাপাতার উৎসাহ দেখে আমি সারাদিন তার কাছে ঘুরে বেড়াতাম
কোনো কোনো দেন পাখিদের
বাষভূমিতে আমার অনেক উপাখ্যান শোনা হতো
তুমি যখন আমার কাছে ছিলে
তখন প্রত্যহ সূর্যোদয় দেখতে যেতাম তোমাদের বাড়ির পুরনো ছাদে
তোমার সেই যে দজ্জাল ভাই সারারাত তাস খেলে এসে
পড়ে পড়ে তখনো ঘুমাতো,
তুমি যখন আমার কাছে ছিলে
তখন আমার রোজ ভোরবেলা ঘুম ভাঙতো, যেতাম
প্রকৃতির কাছে মানবিক অনুভূতি নিয়ে
মানুষের দুঃখ দেখে আমার তখন ভীষণ কান্না পেতো
এখন আমার আর সেই অনুভব ক্ষমতা নেই
মানুষের নিষ্ঠুরতা ও পাপ দেখেও আমি দিব্যি চায়ের দোকানে
বসে হাসতে হাসতে চা খাই
সেলূনে চুল কাটার সময় পাশেই অবৈধ কতো কী ঘটে যায়
তুমি কাছে না থাকলে আমি দিন দিন অমানুষ হয়ে উঠি
আশেপাশে সবার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করি
মানুষ ও প্রকৃতির দিকে চেয়ে আমার হিংসা বোধ হয়
তুমি না থাকলে মেয়েদের রূপ কিংবা ফাহমিদা খাতুনের
রবীন্দ্রসঙ্গীত কিছুই আমাকে আকর্ষণ করে না
শিশুদের প্রতি মমত্ববোধ জাগে না আমার
একে একে সকাল দুপুর সারাদিন নষ্ট হয়
কোনোকিছুই করতে পারিনে আমি
তুমি না থাকলে বড়ো দুঃসময় যায়, সর্বত্র বন্ধুবিহীনভাবে
বাস করি
এই ঢাকা শহর ভীষণ রুক্ষ মনে হয়
কাউকি ডাকলে সাড়া দেয় না, সবাই আমার বিরুদ্ধাচরণ করে
তুমি না থাকলে এই বাড়িঘর শহরের লোকজন
সম্পূর্ণ আমার অপরিচিত মনে হয়
নিজেকেই নিজের অচেনা লাগে
মনে হয় দীর্ঘ দিন থেকে আমি যেন কোনো অজ্ঞাত অসুখে ভুগছি
তুমি না থাকলে বাস্তবিক আমি বড়ো কষ্টে পড়ি
বড়োই কষ্ট হয়।