Sunday, November 28, 2010
যৌবনের প্রথম আকুতি্ . . . . . .
চেয়ে দেখ উঠেছে নতুন সূর্য
সূর্যোদয় হল নতুন ক্ষনের
নতুন প্রভাতের সুরভিত সৌন্দর্যে
চেয়ে দেখ সাতরঙ্গা ধনুর খেলা
তুমি মেঘের বালিশে তনু এলিয়ে
ধ্রুবতারার গহীন এই চাতক চোখে চাও_
এস প্রিয়া
এই প্রসারিত হাত ছুয়ে যাও
তোমার হূদয় উষ্ষতায়
ধ্রুবতারার বাধভাঙ্গা ভালবাসা স্রোতে
ভেসে যাক জীবনের সব বিষন্ন অধ্যায়
বুকে জমানো কষ্ট, বেদনা, অপূর্নতা, নিরবতা
পদ্মজল হয়ে ঝরে পড়ুক ধরায়
আধারে সিদ কেটে এস আমার কাছে
সাথে নিয়ে দীপ্তিময় উষ্ষতা
কষ্ট দুঃখের পাতাটা উল্টে দেখ
কৃষ্ষচুড়ার জোছনা সিক্ত চাদোয়া
বিছানো হৃদয় নীলিমা জুড়ে_
হে অনামিকা
চেয়ে দেখ ধ্রুবতারার নয়ন পানে
কৃ্ষ্ষবিবর, প্রেমের স্বাপ্নিক আহ্বানে
তোমার জীবনের অনাগত ক্ষনকে
স্বাগত জানাচ্ছে আপ্লুতোভাবে
অবগাহন করো প্রিয়তমা ।।
Friday, November 26, 2010
নিরালা
বর্তমানে মুক্তকচ্ছ, ভবিষ্যৎ হোঁচটে ভরা,
মাঝে মাঝে মনে হয়,
দুর্মুখ পৃথিবীকে পিছনে রেখে
তোমাকে নিয়ে কোথাও স’রে পড়ি |
নদীর উপরে যেখানে নীল আকাশ নামে
গভীর স্নেহে,
শেয়াল-সংকুল কোনো নির্জন গ্রামে
কুঁড়েঘর বাঁধি ;
গোরুর দুধ, পোষা মুরগির ডিম, খেতের ধান ;
রাত্রে কান পেতে শোনা বাঁশবনে মশার গান ;
সেখানে দুপুরে শ্যাওলায় সবুজ পুকুরে
গোরুর মতো করুণ চোখ
বাংলার বধূ নামে ;
নিরালা কাল আপন মনে
পুরোনো বিষণ্ণতা হাওয়ায় বোনে |
Thursday, November 4, 2010
শুধু তোমায় ভেবে ভেবে, কত দিন রাত গেছে বয়ে!
শুধু তোমায় ভেবে ভেবে,
কত দিন রাত গেছে বয়ে!
তুমি এসেই চলে গেছো,
শুধু ভোরের স্বপ্ন হয়ে!
তুমি না লেখা কোনো কবিতায়
যেন অনেক বলা কথা,
তুমি দগ্ধ দিনের পরে
নীল রাতের নীরবতা!
তুমি না পাওয়া যন্ত্রণা
আজ আমার গেছে সয়ে,
তুমি এসেই চলে গেছো,
শুধু ভোরের স্বপ্ন হয়ে!
তুমি বৃষ্টি থামার পরে
ভেজা সুখের রিনিরিন,
তুমি চৈত্র শেষের ঝড়ে
যেন দমকা হাওয়ার দিন!
তুমি মিথ্যে প্রতিশ্রুতি,
আমি বেড়াই বুকে নিয়ে!
তুমি এসেই চলে গেছো,
শুধু ভোরের স্বপ্ন হয়ে!
শুধু তোমায় ভেবে ভেবে,
কত দিন রাত গেছে বয়ে!
তুমি এসেই চলে গেছো,
শুধু ভোরের স্বপ্ন হয়ে!
শুধু তোমায় ভেবে ভেবে!
Tuesday, November 2, 2010
মেঘ দেখার দুঃখ, গোলাপ দেখার ব্যাকুলতা
কী করে বলি এই মেঘ দেখর দুঃখ, এই গোলাপ দেখার
ব্যাকুলতা-
কিন্তু আমিও যখন মেঘের দিকে তাকাই দেখি কালিদাসই
দেখছেন বিরহী যক্ষকে,
হঠাৎ মন ভরে যায় বহু যুগের ওপার থেকে আসা বর্ষণে:
এই গোলাপ দেখর কথা আমার হয়তো বলাই হবে না
কিন্তু যখান গোলাপের দিকে তাকাই দেখি ব্রেক
তাকিয়ে আছেন গেলোপের রুগ্নতার দিকে,
কিংবা রিলকে আয়ত্ত করে চলেছেন একটি শ্বেতগোলাপ,
কী করে বলি এই মেঘ দেখার দুঃখ, এই
গোলাপ দেখার ব্যাকুলতা!
মেঘ দেখতে দেখতে আমি যে কখন মেঘদূতের ভেতর ডুবে যাই,
বিরহকাতর যক্ষের জন্য ভারী হয়ে ওঠে এই বুক
কিংবা গোলাপের দিকে তাকাতেই চোখে ভেসৈ ওঠে
রিলকের মুখটি,
এই মেঘ দেখার দুঃখ, এই গোলাপ দেখার ব্যাকুলতা
কাউকে বলাই হবে না ;
আমি যখন এই প্রকৃতির দিকে তাকাই দেখি রবীন্দ্রনাথ
দেখছেন প্রকৃতির নীলাম্বরী
সেই ব্যকুল বসন্তে আমারও দুচোখ জলে ভরে যায় -
এই মেঘ, এই গোলাপ আমারও অলিখিত কবিতা।
যখন মানুষের সুদ্ধতার কথা ভাবি দেখি দাঁড়িয়ে আছেন
ব্যথিত বোদলেয়ার
শহরের রাত্রির দিকে তাকালে মনে হয় জীবনানন্দ দাশ দেখছেন
লিবিয়ার জঙ্গল,
যখন একজন বিপ্লবীর দিকে তাকাই দেখি দুচোখে
মায়াকোভস্কির স্বপ্ন
আর্ত স্বদেশের দিকে তাকিয়ে আমিও নেরুদার কথাই ভাবি,
কেউ জানে না একটি ফুলের মৃত্যু দেখে, একটি পাখির ক্রন্দন দেখে
আমারও হৃদয় পৃথিবীর আহত কবিদের মতোই হাহাকার
করে ওঠে।
একটি ফুল দেখে আমিও একজন প্রেমিকের মতোই পরাজিত
হতে ভালোবাসি
একটি ঝরাফুলের দুঃখ বুকে নিয়ে যে-কোনো ব্যথিত কবির
মতোই সারাদনি ঘুরে বেড়াই,
আসলে সে-কথাগুলোই বলা হয়নি, বলা হয়নি;
মানুষের সমাজে এই বৈষম্য দেখে আমিও একজন
বিপ্লবীর মতোই শ্রেনীসংগ্রামের জন্য তৈরি হই,
এই জরা বার্ধক্য দেখে কতোবার বুদ্ধের মতোই
ব্যথিত হয়ে উঠি;
কিন্তু কী করে বলবো এইসব মেঘ দেখার দুঃখ, এইসব
গোলাপ দেখার ব্যাকুলতা!
ফুটেছে ফুল, বিরহী তবু চাঁদ
----– মহাদেব সাহা
ফুটেছে ফুল ঠোঁটের মতো লাল
আকাশে চাঁদ বিরহী চিরকাল;
কে যেন একা গাইছে বসে গান
সন্ধ্যা নামে, দিনের অবসান।
দুর পাহাড়ে শান্ত মৃদু পায়ে
রাত্রি নামে স্তব্ধ নিঝুম গাঁয়ে;
শূন্যে ভাসে মেঘের জলাশয়
এই জীবনে সবকিছুই তো সয়।
বিরহী চাঁদ মোমের মতো গলে
বুকের মাঝে কিসের আগুন জ্বলে;
মন পড়ে রয় কোন অজানালোকে
নিজেকেই সে পোড়ায় নিজের শোকে।
ফুটেছে ফুল ঠোঁটের মতো লাল
বিরহী চাঁদ বিরহী চিরকাল;
ফুটেছে ফুল বিরহী তবু চাঁদ,
বাইরে আলো, ভেতরে অবসাদ।
চিঠি দিও
করুণা করে হলেও চিঠি দিও, খামে ভরে তুলে দিও
আঙ্গুলের মিহিন সেলাই
ভুল বানানেও লিখো প্রিয়, বেশি হলে কেটে ফেলো তাও,
এটুকু সামান্য দাবি, চিঠি দিও, তোমার শাড়ির মতো
অক্ষরের পাড়-বোনা একখানি চিঠি।
চুলের মতন কোনো চিহ্ন দিও বিস্ময় বোঝাতে যদি চাও …
বর্ণণা আলস্য লাগে তোমার চোখের মতো চিহ্ন কিছু দিও!
আজো তো অমল আমি চিঠি চাই, পথ চেয়ে আছি,
আসবেন অচেনা রাজার লোক
তার হাতে চিঠি দিও, বাড়ি পৌঁছে দেবে ….
এমন ব্যস্ততা যদি শুদ্ধ করে একটি শব্দই শুধু লিখো, তোমার কুশল! …
করুণা করে হলেও চিঠি দিও, ভুলে গিয়ে ভুল করে একখানি চিঠি
দিও খামে
কিছুই লেখার নেই তবু লিখো একটি পাখির শিস
একটি ফুলের ছোট নাম,
টুকিটাকি হয়তো হারিয়ে গেছে কিছু, হয়তো পাওনি খুঁজে
সেইসব চুপচাপ কোন দুপুরবেলার গল্প
খুব মেঘ করে এলে কখনো কখনো বড় একা লাগে, তাই লিখো
করুণা করে হলেও চিঠি দিও, মিথ্যা করে হলেও বোলো, ভালবাসি !
আদিবর্ষা
আমার শৈশব খুব বৃষ্টিময়, সেই অঝোর বৃষ্টিতে কাঙ্গালের মতো
দেখেছি বর্ষার মেঘ, এই বৃষ্টি ছিলো
প্রকৃতির আদিবর্ষা, তারই কাছে নিয়েছি প্রেমের পাঠ
মন হুহু করা অনন্ত বিষাদরাশি পেয়েছি বর্ষার কাছে,
শিখেছি মেঘের কাছে পাহাড়ি মেয়ের
খিলখিল হাসির মতো জলের কথক নৃত্য;
এই ছিলো আমার শৈশব, কাজলাদিদির জন্য বালিশ ভেজানো কান্না
বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দ আমি তার অর্থ বুঝি না
সেই শৈশবের বৃষ্টি ও বর্ষায় আজো আমি উত্থাল উম্মাদ -
আজো আমি আকাশের কাছে করজোড়ে ক্ষমা ভিক্ষা চাই,
কিছুই নেই, দুফোঁটা চোখের জল জমা রাখি অনন্তের কাছে;
এই বর্ষায় বিষাদে আদিগন্ত ঘরে দেখি আকাশের
গায়ে লেখা মেঘদূত সেই বিরহের বিধুর কবিতা
আমি সেই স্বপ্নাতুর বালকের মতো আজো শৈশবের
অঝোর বৃষ্টিতে ভিজে উতোল বর্ষায় ভেসে যাই।
এই জীবনে
এই জীবনে হবে না আর মূলে যাওয়া,
চুড়োয় ওঠা-
কাটবে জীবন পাদদেশে, পাদমূলে;
খুব ভেতরে প্রবেশ করা হবে না আর এই জীবনে
হবে না আর ভেতর মধু ফের আহরণ,
হবে শুধুই ওপর ছোঁয়া, ওপর দেখা।
এই জীবনে হবে না আর তোমার নিবিড়
স্পর্শ পাওয়া,
হবে না এই নদী দেখা, জলাশয়ের
কাছে যাওয়া,
একটিবার তোমায় নিয়ে হ্রদের জলে একটু নামা-
হবে না আর পৌঁছা মোটেই ডুব-সাঁতারে
জলের গহীন তলদেশে,
জলে নামা, সাঁতার শেখা;
মূলের সঙ্গে হবে না আর ঠিক পরিচয়
মাত্র এখন অনুবাদের অর্ধ স্বাদেই তৃপ্ত থাকা,
এই জীবনে হবে না আর আকাশ দেখা,
চিবুক ছোঁয়া-
তোমায় নিয়ে নীল পাহাড়ে ঘুরতে যাওয়া;
এই জীবনে হবে না আর তোমার গোপন দেখা পাওয়া,
একন শুধু চোখের জলে দুঃখ পাওয়া,
নিজের মাঝেই ফুরিয়ে যাওয়া, ফুরিয়ে যাওয়া।
এই জীবনে হবে না আর দুঃখ কারো
মোচন করা,
কারো অশ্রু মুছিয়ে দেয়া সাঁকো বাঁধা,
কারো ক্ষত সারিয়ে তোলা;
এই জীবনে হবে না আর মুগ্ধ ভ্রমণ,
কারো ক্ষত সারিয়ে তোলা;
এই জীবনে হবে না আর মুগ্ধ ভ্রমণ,
মূলে যাওয়া-
তোমায় ছোঁয়া।
এ জীবন আমার নয়
এ জীবন আমার নয়, আমি বেঁচে আছি
অন্য কোনো পাখির জীবনে,
কোনো উদ্ভিদের জীবনে আমি বেঁচে আমি
লতাগুল্ম-ফুলের জীবনে;
মনে হয় চাঁদের বুকের কোনো আদিম পাথার আমি
ভস্মকণা,
ভাসমান একটু শ্যাওলা আমি;
এই যে জীবন দেখছো এ জীবন আমার নয়
আমি বেঁচে আছি বৃক্ষের জীবনে,
পাখি, ফুল, ঘাসের জীবনে।
আমি তো জন্মেই মৃত, বেঁচে আছি
অন্য এক জলের উদ্ভিদ-
আমার শরীর এইসব সামদ্রিক প্রাণীদের
সামান্য দেহের অংশ,
আমি কোটি কোটি বছরের পুরাতন একটি
বৃক্ষের পাতা
একবিন্দু প্রাণের উৎস, জীবনের
সামান্য একটি কোষ;
এ জীবন আমার নয় আমি সেইসব অন্তহীন
জীবনের একটি জীবন,
আমি বেঁচে আছি অন্য জীবনে, অন্য
স্বপ্ন-ভালোবাসায়।
তোমাকে ছাড়া
তুমি যখন আমার কাছে ছিলে
তখন গাছের কাছে গেলে আমার ভীষণ আনন্দ বোধ হতো
লতাপাতার উৎসাহ দেখে আমি সারাদিন তার কাছে ঘুরে বেড়াতাম
কোনো কোনো দেন পাখিদের
বাষভূমিতে আমার অনেক উপাখ্যান শোনা হতো
তুমি যখন আমার কাছে ছিলে
তখন প্রত্যহ সূর্যোদয় দেখতে যেতাম তোমাদের বাড়ির পুরনো ছাদে
তোমার সেই যে দজ্জাল ভাই সারারাত তাস খেলে এসে
পড়ে পড়ে তখনো ঘুমাতো,
তুমি যখন আমার কাছে ছিলে
তখন আমার রোজ ভোরবেলা ঘুম ভাঙতো, যেতাম
প্রকৃতির কাছে মানবিক অনুভূতি নিয়ে
মানুষের দুঃখ দেখে আমার তখন ভীষণ কান্না পেতো
এখন আমার আর সেই অনুভব ক্ষমতা নেই
মানুষের নিষ্ঠুরতা ও পাপ দেখেও আমি দিব্যি চায়ের দোকানে
বসে হাসতে হাসতে চা খাই
সেলূনে চুল কাটার সময় পাশেই অবৈধ কতো কী ঘটে যায়
তুমি কাছে না থাকলে আমি দিন দিন অমানুষ হয়ে উঠি
আশেপাশে সবার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করি
মানুষ ও প্রকৃতির দিকে চেয়ে আমার হিংসা বোধ হয়
তুমি না থাকলে মেয়েদের রূপ কিংবা ফাহমিদা খাতুনের
রবীন্দ্রসঙ্গীত কিছুই আমাকে আকর্ষণ করে না
শিশুদের প্রতি মমত্ববোধ জাগে না আমার
একে একে সকাল দুপুর সারাদিন নষ্ট হয়
কোনোকিছুই করতে পারিনে আমি
তুমি না থাকলে বড়ো দুঃসময় যায়, সর্বত্র বন্ধুবিহীনভাবে
বাস করি
এই ঢাকা শহর ভীষণ রুক্ষ মনে হয়
কাউকি ডাকলে সাড়া দেয় না, সবাই আমার বিরুদ্ধাচরণ করে
তুমি না থাকলে এই বাড়িঘর শহরের লোকজন
সম্পূর্ণ আমার অপরিচিত মনে হয়
নিজেকেই নিজের অচেনা লাগে
মনে হয় দীর্ঘ দিন থেকে আমি যেন কোনো অজ্ঞাত অসুখে ভুগছি
তুমি না থাকলে বাস্তবিক আমি বড়ো কষ্টে পড়ি
বড়োই কষ্ট হয়।
Saturday, October 30, 2010
সব কথা তোমাকে জানাবো ভেবেছিলাম
সব কথা তোমাকে জানাবো ভেবেছিলাম
কিনে এনেছিলাম আকাশী রঙের বিলিতি হাওয়াই চিঠি
সে চিঠির অক্ষরে অক্ষরে লেখা যেত
কেন তোমাকে এখনো চিঠি লেখার কথা ভাবি
লেখা যেত
আমাদের উঠোনে কামিনী ফুলগাছে
এবার বর্ষায় ফুলের ছড়াছড়ি
তুমি আরেকটু কাছে থাকলেই
বৃষ্টিভেজা বাতাসে সে সৌরভ তোমার কাছে পৌঁছতো
আর তোমার উপহার দেওয়া সেই স্বচ্ছন্দ বেড়ালছানা
এখন এক মাথামোটা অতিকায় হুলো
সারা রাত তার হুঙ্কারে পাড়ার লোকেরা অস্থির।
তোমাকে জানানো যেত,
এবছর কলকাতায় গ্রীষ্ম বড় দীর্ঘ ছিল
এখন পর্যন্ত বর্ষার হাবভাবও খুব সুবিধের নয়।
এদিকে কয়েকমাস আগে
নিউ মার্কেট আর্দ্ধেকের বেশী পুড়ে ছাই।
আর দুনম্বর হাওড়া ব্রীজ শেষ হওয়ার আগেই
যেকোনো দুনম্বরি জিনিসের মত ঝুরঝুর করে ভেঙে পড়ছে।
এদিকে এর মধ্যে আবার নির্বাচন এসে গেল,
অথচ কে যে কোন দলে, কার পক্ষে তা আজও জানা গেলনা।
কিন্তু এসব তোমাকে কেন জানাবো?
এসব খবরে তোমার এখন কোনো প্রয়োজন নেই।
অথচ এর থেকেও কি যেন তোমাকে জানানোর ছিল,
কিছু একটা আছে, কিন্তু সেটা যে ঠিক কি
পরিষ্কার করে আমি নিজেও বুঝতে পারছিনা।
টেবিলের একপাশে কাঁচের কাগজচাপার নীচে
ধুলোয়, বাতাসে বিবর্ণ হয়ে আসছে হাওয়াই চিঠি।
তার গায়ে ডাকের ছাপের চেয়ে একটু বড়,
অসতর্ক চায়ের পেয়ালার গোল ছাপ,
পাখার হাওয়ায় সারাদিন, সারারাত ফড় ফড় করে ডানা ঝাপটায়
সেই ঠিকানাবিহীন রঙিন ফাঁকা চিঠি।
অথচ তোমার কাছে
তার উড়ে যাওয়ার কথা ছিল।
Sunday, September 26, 2010
বর্ষার বৃষ্টিতে
এক বর্ষার বৃষ্টিতে যদি মুছে যায় নাম
এত পথ হেঁটে এত জল ঘেটে কি তবে পেলাম?
এত যে সয়েছি, এত যে পেয়েছি,
দুঃখ-সুখের ধারায় নেয়েছি,
দুচোখে দেখেছি অপার্থিবের, অফুরান্তের ঝর্ণা
প্রকৃতির রীতি মানুষের ঘর-করনা।
মার কোলো শিশু ঘুমে অচেতন,
চুলে বিলি দেয় হাওয়া --
একটি চুমোয় বিশ্বের সব খ্যাতি গৌরব
বিত্তের স্বাদ পাওয়া।
ধিক্কারে ভরা নোংরা নরকে
একটি কথার গানে
শত বার ফিরে জন্ম নেবার
অভিলাষ আনে প্রাণে।
সব আশা যদি চুরমার হয়
ভাঙে ফুলদানী, ভোরের চায়ের বাটি
যে পথে সে আর ফিরবে না
তবু আর একবার সেই পথ দিয় হাঁটি।
তৃষ্ণা মেটে না দেখে।
এখন কি তবে জলে লিখে নাম চলে যেতে হবে?
কী তবে পেলাম, কী তবে হলাম!
চিরজীবীদের জয়টিকা আর অসামান্যের মাল্য
প্রতিজ্ঞা করে কেটেছে একদা দেব-দুর্লভ বাল্য।
ছিল না শঙ্কা, মনের কোনায় সন্দেহ ক্ষীণ
শিশু উল্লাসে হাওয়ায় হাওয়ায় সে আমার দিন
রাঙা বুদবুদ উড়িয়ে দিয়েছি চপল খেলায়
আজ যৌবন খর-জীবনের মধ্য বেলায় -
এখন দেখছি কত যে স্বপ্ন কত যে ইচ্ছে
হল না জীবনে পূরণ -- কে তার হিসেব নিচ্ছে!
চলতে চলতে নিজেই ভুলেছি, কত না দুপুর
কালো ভ্রমরের বহিয়া কী সুর
লঘু প্রহরের সে-সুর ছন্দে গাঁথার সময়
পেল না হৃদয়।
দীর্ঘ গ্রীষ্ম কেটে গেছে, কত গানের চরণ
চোখোর সামনে জারুলের শাখা বেগনি বরণ
পুষ্প-প্রদীপে অপব্যয়ের যে উদাহরণ
স্থাপন করেছে, তা দেখে আমার হৃদয় জানত
আমারো তা হবে। জারুল শাখায় যে অফুরন্ত
আমারো জীবন জারুলের মতো করবে তুচ্ছ
সকল চিহ্ন অবলেপকারী কালের ইচ্ছা
আমিও পারব এ মরদেহের ধ্বংস ভুলতে
হিমে উলঙ্গ কালের শাখায় পুচ্ছ তুলতে।
আমি তো কখনো করি নাই তাই কারো প্রতীক্ষা
হায় দুরন্ত শ্রাবণ, তুমিই দিয়েছ শিক্ষা
হৃদয় শুধুই দু'হাতে বিলাতে, ঝরাতে শুধুই
তোমার মতোই সঞ্চয় আমি রাখিনি কিছুই।
আজ রাত্রিতে বৃষ্টি নেমেছে
একা বিছানায় ঘুম চোখে নেই -
শুয়ে শুনি হাওয়া ডেকে ডেকে যায়
যেন মনে হয়, আজ রাত্রিতে এখানে আসার
কত কাল থেকে রক্তে আমার কথা ছিল কার!
আমাকে অমর করার মন্ত্র সে বুঝি জানত
সে অপার্থিব, সে অফুরন্ত -
সে যেন আমার
লক্ষ্য-বিহীন সকল গানের অকুল মোহনা
সে যেন আমার অধীর প্রাণের চির প্রতীক্ষা
হায়, দুরন্ত উতল শ্রাবণ
তোমার শিক্ষা --
এই তো করল!
এখন কি শেষে
জলে লিখে নাম চলে যেতে হবে?
কি তবে হলাম!
Sunday, September 19, 2010
এক কোটি বছর তোমাকে দেখি না
এক কোটি বছর হয় তোকাকে দেখি না
একবার তোমাকে দেখতে পাবো
এই নিশ্চয়তাটুকু পেলে-
বিদ্যাসাগরের মতো আমিও সাঁতরে পার হবো ভরা দামোদর
কয়েক হাজার বার পাড়ি দেবো ইংলিশ চ্যানেল;
তোমাকে একটিবার দেখতে পাবো এটুকু ভরসা পেলে
অনায়াসে ডিঙাবো এই কারার প্রাচীর,
ছুটে যবো নাগরাজ্যে পাতালপুরীতে
কিংবা বোমারু বিমান ওড়া
শঙ্কিত শহরে।
যদি জানি একবার দেখা পাবো তাহলে উত্তপ্ত মরুভূমি
অনায়াসে হেঁটে পাড়ি দেবো,
কাঁটাতার ডিঙাবো সহজে, লোকলজ্জা ঝেড়ে মুছে
ফেলে যাবো যে কোনো সভায়
কিংবা পার্কে ও মেলায়;
একবার দেখা পাবো শুধু এই আশ্বাস পেলে
এক পৃথিবীর এটুকু দূরত্ব আমি অবলীলাক্রমে পাড়ি দেবো।
তোমাকে দেখেছি কবে, সেই কবে, কোন বৃহস্পতিবার
আর এক কোটি বছর হয় তোমাকে দেখি না।
Sunday, August 29, 2010
আজ তুমিও শূন্য, আমিও শূন্য.
অথচ চোখ বুঁজতেই,
আমার একরত্তি পৃথিবী,
গড়াতে, গড়াতে,
গড়াতে গড়াতে তোমার পায়ের কাছে।
সোনার কাঠি-রূপোর কাঠি বদল করা হয় না আর।
অকারণ পদাঘাতে
ক্ষতবিক্ষত,
টুকরো টুকরো হয়ে ফিরে আসে,
ভাঙাচোড়া বাসভূমে।
আমারতো ঘর নেই,
তথাকথিত ঈশ্বরের কোন বর নেই,
নেই কোন শ্রদ্ধেয় আলাদীনের আশ্চর্য প্রদীপ;
কি আছে সাধ্য আমার,
পূজো দেই তোমার বিগ্রহে।
যাও ছিল
শান্ত এক যমুনা,
মাঝিদের লুকোচুরি খেলা
অবিরাম রোদ্দুরের সাথে;
জলেরা পরে থাকে,
বিরামহীন নেশা করে।
তুমি নেই...
যমুনাও এখন বাঁধভাঙা অশান্ত,
এখন প্রতি রাতে জলোচ্ছাস,
দন্ডে দন্ডে দীর্ঘশ্বাস,
আমার যমুনায়...
আপন জলে ডুবতে ডুবতে,
কখন মুখস্হ করে ফেলি,
সেই সব ৪০৮ ঘন্টা...
ছেঁড়া খোঁড়া তোমার আশীর্বাদ।
অতিকায় শিক্ষকের
সপাং-সপাং বেত এর আঘাতে,
যে আমি মনে রাখতে পারিনি কখন,
সুদকষা, বিদঘুটে অংকের সুখকর মিলন,
নিরস বিঞ্জানে, প্রকান্ড জাহাজ পানিতে ভাসার আশ্চর্য মন্ত্র,
আর বদরের ময়দানে, বিস্তারিত যুদ্ধ,
সেই আমিই দেখো, কত সহজে,
হর-হর করে বলে যেতে পারি,
সেই সব ৪০৮ ঘন্টা...
কতোবার বিষন্ন মেঘ,
ঢেকে দিয়েছে সোনালী রোদ্দুর;
কতোগুলো ঘাস প্রাণ দিয়েছে,
অকারণ তোমার খেয়ালে;
কখন, কতোবার গরম নিশ্বাসে,
ফুঁসে উঠেছে ভালোবাসা, কেউটের ফণা;
কতোবার ঐ চোখ ঘোরা তে,
ধ্বসে পরেছে, ভূমিকম্পে, আমার পৃথিবী।
এসবের তুমি জানলে না কিছুই...
জানলে না, জন্মমাত্র,
অকরুণ চিৎকারে মেতে উঠি
অলস ঘুমে মগ্ন আছো এই ভেবে,
অথচ এখন
রাত-দিন চিৎকার অন্তরে অন্তরে।
এখন নক্ষত্র হয়ে,
অন্ধকারে ঝুলে থাকা,
সাধ্যের বাইরে, আলো জ্বেলে ঝুলে আছি,
আমি এক নামহীন নক্ষত্র...
আমায় নাম দাও...
বিলীন হবার আগে,
শান্ত যমুনা দাও...
সোনালী রোদ্দুর,
শ্রাবণ দাও...
রূপালী রাত দাও...
ক্লান্তিহীন পথ দাও...
সেই সব ৪০৮ ঘন্টা...
আর আমাকে দাও...আমাকে দাও...
মিথিলা .....মিথিলা .....,
সেদিন তোমার কাছ থেকে পালিয়ে এসেছি...
সামনে দাঁড়িয়ে প্রকাশ করতে পারিনি, আমার ভালোবাসা...
দেখাতে পারিনি,
আমার ভেতরের আমিকে...
পাছে তুমি বিদ্রুপ করো, এই ভয়ে...
অথচ শুধু আমিই জানি,
কতোটা কাঙাল আমি, একমুঠো ভালোবাসার জন্য...
এতো ভালোবাসি...
তবু তুমি জানলে না...
হয়তো জানবেও না কোনদিন...
এই আমার সুখ,
এবং এই আমার প্রতিশোধ...
লোকে বলে, তুমিও বলেছিলে,
এসব কষ্টবিলাস...
যে যা বলে বলুক,
সাধের জীবন, বন্ধক রেখে হলেও,
আমি আমৃত্যু, তোমাকে চাই...
তবু তোমার সামনে,
তোমার সামনে, আর ভালোবাসার কাঙাল হবো না কোনদিন...
মিথিলা
এই কষ্টবিলাস নিয়ে,
আমি তোমাকে শুধু,
শুধু তোমাকেই ভালোবেসে যাবো, আমৃত্যু...
একা একা...
Saturday, July 10, 2010
কর্তৃত্ব গ্রহণ কর, নারী – ফরহাদ মজহার
-----ফরহাদ মজহার
আমি তোমার সামনে আবার নতজানু হয়েছি, নারী
না, প্রেমে নয়, অশ্লেষে নয়,
ক্ষমা চেয়ে
তোমার দয়া দিয়ে আমার হৃদয় ধুয়ে দেবার প্রার্থনায়
আমার ভেতরে যে পুরুষ তাকে আমি চাবুক মেরে শাসন করেছি
তাকে হাঁটু মুড়ে বসতে বলেছি তোমার সামনে
আমি ক্ষমা চাই, ক্ষমা করে দাও
শুধু আমাকে নয়
সমস্ত পুরুষকে তুমি ক্ষমা কর
আমি আজ সমস্ত পুরুষের হয়ে তোমার ক্ষমাপ্রার্থী
পুরুষ তোমার সামনে আবার
নতজানু হয়েছে নারী,
তাকে ক্ষমা করে দাও।
গৃহপালিত পশুর মতো তোমাকে ব্যবহার করেছে পুরুষ
আখমাড়াইয়ের কারখানার মতো তোমার জানু চেপে
তারা উৎপাদন করেছে সন্তান
টেলিভিশন বাক্সের মতো তোমার ভেতর তারা ঠেসে দিয়েছে
তাদের জগত
নীলাভ শিখার মতো জ্বলতে জ্বলতে তুমি তা প্রতিদিন
প্রচার করে যাচ্ছ-
ইলেকট্রনিক সরঞ্জামের মতো অপ্রাণীবাচক তোমার অস্তিত্ব
প্লাস্টিকের পুতুলের মতো প্রাণহীন
তোমার নাম হতে পারত কাঠকয়লা
তোমার নাম হতে পারত হাতুড়ি
তোমার নাম হতে পারত শেলাইকল
তোমার নাম হতে পারত মাদীকুকুর
নরবানরেরা ঠাট্টা করে তোমার নাম রেখেছে নারী
এইসব জেনে তোমার সামনে আমি
নতমুখে এসে দাঁড়িয়েছি, নারী
আমি পুরুষ
আমাকে ক্ষমা কর।
প্রতিদিন কেউ-না-কেউ স্বামী তার স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা করে
প্রতিদিন কেউ-না-কেউ পশুস্বভাবী কামুক
তোমার মুখে এসিড ছুঁড়ে মারে
প্রতিদিন ১১ বছর বয়সী বালিকাকে
ধর্ষণ করে ১১জন পুরুষ
কেনাবেচা চলছে তোমাকে নিয়ে
যেন তুমি শাকশব্জি
আলুপটল
খাসীর মাংস
তোমার স্তন তারা মাপছে ফিতে দিয়ে
তোমার কোমর তারা মাপছে ফিতে দিয়ে
তোমার উরু তারা মাপছে ফিতে দিয়ে
দাঁড়িপাল্লা ঝুলিয়ে ওজন করছে তোমাকে
তোমার দাঁত চুল নখ পরখ করে সাব্যস্ত করছে
তোমার মূল্য
তোমার নাম হতে পারত মোগলাই পরোটা
তোমার নাম হতে পারত জাপানি হোন্ডা
তোমার নাম হতে পারত ডানহিল সিগারেট
তোমার নাম হতে পারত পুষিবিড়াল
অর্ধসভ্য মানুষ তোমার নাম রেখেছে অর্ধাঙ্গিনী
এইসব জেনে তোমার সামনে আমি
নতমুখে এসে দাঁড়িয়েছি, নারী
আমি পুরুষ
আমাকে ক্ষমা কর।
তুমি প্রজননযন্ত্র তাই তোমার নাম জননী
তুমি রমণযোগ্য তাই তোমার নাম রমণী
ঘোড়াশালে ঘোড়া হাতিশালে হাতির মতো মহলে মহলে থাকো
তাই তোমার নাম মহিলা
গৃহে গৃহে আসবাবপত্রের মত শোভা পাও
তাই তোমার নাম গৃহিণী
আমি পুরুষ শব্দের সমান অর্থবহ উচ্চারণে
তোমার নামকরণ করতে চাই, নারী
কিন্তু পারি না
অক্ষম লজ্জায় আমি তোমার সামনে
অপরাধীর মত দাঁড়িয়ে আছি
আমি পুরুষ
আমাকে ক্ষমা কর।
আজ আমি তোমাকে বলতে এসেছি
পুরুষ শব্দের অর্থ হচ্ছে কর্তৃত্ব
এবং তোমার কর্তৃত্ব গ্রহণ করার সময় হয়েছে, নারী
পুরুষকে গ্রহণ কর।
যদি ভালবাসা পাই
যদি ভালবাসা পাই আবার শুধরে নেব
জীবনের ভুলগুলি
যদি ভালবাসা পাই ব্যাপক দীর্ঘপথে
তুলে নেব ঝোলাঝুলি
যদি ভালবাসা পাই শীতের রাতের শেষে
মখমল দিন পাব
যদি ভালবাসা পাই পাহাড় ডিঙ্গাবো
আর সমুদ্র সাঁতরাবো
যদি ভালবাসা পাই আমার আকাশ হবে
দ্রুত শরতের নীল
যদি ভালবাসা পাই জীবনে আমিও পাব
মধ্য-অন্ত্য মিল।
যদি ভালবাসা পাই আবার শুধরে নেবো
জীবনের ভুলগুলি;
যদি ভালবাসা পাই শিল্প-দীর্ঘ পথে
ব’য়ে যাবো কাঁথাগুলি।
কোটি কোটি বার জন্ম নিতে চাই, বসন্ত
--- মহাদেব সাহা
শীত শেষ হওয়ার আগেই এবার আমার বসন্ত, বহুদুরে
শীতের দেশে তার জন্ম,
আমি তার নাম দিয়েছি ভালোবাসার পংক্তিমালা,
কাঁচা রোদের মতো তার মিষ্টি মুখের জন্য
আমি কোটি কোটি বার জন্ম নিতে চাই;
ওই তো পথের ধারে বিলবোর্ডের গায়ে ফুটে আছে বসন্ত, ওই তো
বসন্ত গুনগুন করছে বইমেলায়
ওই তো ১৪ই ফেব্রুয়ারি হেঁটে যাচ্ছে একদল হলুদ শাড়ি
যামিনী রায়ের ছবির মতো ফুল ফুটেছে তার খোঁপায়
আমি এই বসন্তের কাছেই একদিন লিখেছি ‘যাও পাখি বলো তারে’ ।
কোথায় ছিল এই বসন্ত, ভোরবেলার শিশিরের মতো
এই কচিমুখ
এই আকাশ রাঙ্গিয়ে দেওয়া হলুদবাটা
হাত?
বহুদিন আমি এই বর্ষা আর বসন্তের যৌথ উৎসব
দেখার অপেক্ষায় আছি;
এখনো তাই বসন্তের কথা বলতেই আমার চোখ ভিজে ওঠে
দেখি কেমন সুখ শব্দটি সব অভিধান জুড়ে আছে
দেখি বৈষ্ণব কবিতার মতো বুক-পকেটে গুনগুন করছে মৌমাছি,
তোমার জন্য আমি আরো কোটি কোটি বার
জন্ম নিতে চাই, বসন্ত ।
প্রতীক্ষা
------ রফিক আজাদ
এমন অনেক দিন গেছে
আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় থেকেছি,
হেমন্তে পাতা-ঝরার শব্দ শুনবো ব’লে
নিঃশব্দে অপেক্ষা করেছি বনভূমিতে-
কোনো বন্ধুর জন্যে
কিংবা অন্য অনেকের জন্যে
হয়তো বা ভবিষ্যতেও অপেক্ষা করবো…
এমন অনেক দিনই তো গেছে
কারো অপেক্ষায় বাড়ি ব’সে আছি-
হয়তো কেউ বলেছিলো, “অপেক্ষা ক’রো
একসঙ্গে বেরুবো।”
এক শনিবার রাতে খুব ক্যাজুয়ালি
কোনো বন্ধু ঘোরের মধ্যে গোঙানির মতো
উচ্চারণ করেছিলো, “বাড়ি থেকো
ভোরবেলা তোমাকে তুলে নেবো।”
হয়তো বা ওর মনের মধ্যে ছিলো
চুনিয়া অথবা শ্রীপুর ফরেস্ট বাংলো;
-আমি অপেক্ষায় থেকেছি।
যুদ্ধের অনেক আগে
একবার আমার প্রিয়বন্ধু অলোক মিত্র
ঠাট্টা ক’রে বলেছিলো,
“জীবনে তো কিছুই দেখলি না
ন্যুব্জপীঠ পানশালা ছাড়া। চল, তোকে
দিনাজপুরে নিয়ে যাবো
কান্তজীর মন্দির ও রামসাগর দেখবি,
বিরাট গোলাকার চাঁদ মস্ত খোলা আকাশ দেখবি,
পলা ও আধিয়ারদের জীবন দেখবি,
গল্প-টল্প লেখার ব্যাপারে কিছু উপাদান
পেয়ে যেতেও পারিস,
তৈরী থাকিস- আমি আসবো”
-আমি অপেক্ষায় থেকেছি;
আমি বন্ধু, পরিচিত-জন, এমনকি- শত্রুর জন্যেও
অপেক্ষায় থেকেছি,
বন্ধুর মধুর হাসি আর শত্রুর ছুরির জন্যে
অপেক্ষায় থেকেছি-
কিন্তু তোমার জন্য আমি অপেক্ষায় থাকবো না,
-প্রতীক্ষা করবো।
‘প্রতীক্ষা’ শব্দটি আমি শুধু তোমারই জন্যে খুব যত্নে
বুকের তোরঙ্গে তুলে রাখলাম,
অভিধানে শব্দ-দু’টির তেমন কোনো
আলাদা মানে নেই-
কিন্তু আমরা দু’জন জানি
ঐ দুই শব্দের মধ্যে পার্থক্য অনেক,
‘অপেক্ষা’ একটি দরকারি শব্দ—
আটপৌরে, দ্যোতনাহীন, ব্যঞ্জনাবিহীন,
অনেকের প্রয়োজন মেটায়।
‘প্রতীক্ষা’ই আমাদের ব্যবহার্য সঠিক শব্দ,
ঊনমান অপর শব্দটি আমাদের ব্যবহারের অযোগ্য,
আমরা কি একে অপরের জন্যে প্রতীক্ষা করবো না ?
আমি তোমার জন্যে পথপ্রান্তে অশ্বত্থের মতো
দাঁড়িয়ে থাকবো-
ঐ বৃক্ষ অনন্তকাল ধ’রে যোগ্য পথিকের
জন্যে প্রতীক্ষমান,
আমাকে তুমি প্রতীক্ষা করতে বোলো
আমি ঠায় দাঁড়িয়ে থাকবো অনড় বিশ্বাসে,
দাঁড়িয়ে থাকতে-থাকতে
আমার পায়ে শিকড় গজাবে…
আমার প্রতীক্ষা তবু ফুরোবে না…
Thursday, June 24, 2010
শুধু তোমার জন্য
------
কতবার যে আমি তোমোকে স্পর্শ করতে গিয়ে
গুটিয়ে নিয়েছি হাত-সে কথা ঈশ্বর জানেন।
তোমাকে ভালোবাসার কথা বলতে গিয়েও
কতবার যে আমি সে কথা বলিনি
সে কথা আমার ঈশ্বর জানেন।
তোমার হাতের মৃদু কড়ানাড়ার শব্দ শুনে জেগে উঠবার জন্য
দরোজার সঙ্গে চুম্বকের মতো আমি গেঁথে রেখেছিলাম
আমার কর্ণযুগল; তুমি এসে আমাকে ডেকে বলবেঃ
‘এই ওঠো,
আমি, আ…মি…।‘
আর অমি এ-কী শুনলাম
এমত উল্লাসে নিজেকে নিক্ষেপ করবো তোমার উদ্দেশ্যে
কতবার যে এরকম একটি দৃশ্যের কথা আমি মনে মনে
কল্পনা করেছি, সে-কথা আমার ঈশ্বর জানেন।
আমার চুল পেকেছে তোমার জন্য,
আমার গায়ে জ্বর এসেছে তোমার জন্য,
আমার ঈশ্বর জানেন- আমার মৃত্যু হবে তোমার জন্য।
তারপর অনেকদিন পর একদিন তুমিও জানবে,
আমি জন্মেছিলাম তোমার জন্য। শুধু তোমার জন্য।
যা চেয়েছি যা পাবো না
...............
-কী চাও আমার কাছে ?
-কিছু তো চাইনি আমি ।
-চাওনি তা ঠিক । তবু কেন
এমন ঝড়ের মতো ডাক দাও ?
-জানি না । ওদিকে দ্যাখো
রোদ্দুরে রুপোর মতো জল
তোমার চোখের মতো
দূরবর্তী নৌকো
চর্তুদিকে তোমাকেই দেখা
-সত্যি করে বলো, কবি, কী চাও আমার কাছে ?
-মনে হয় তুমি দেবী...
-আমি দেবী নই ।
-তুমি তো জানো না তুমি কে !
-কে আমি !
-তুমি সরস্বতী, শব্দটির মূল অর্থে
যদিও মানবী, তাই কাছাকাছি পাওয়া
মাঝে মাঝে নারী নামে ডাকি
-হাসি পায় শুনে । যখন যা মনে আসে
তাই বলো, ঠিক নয় ?
-অনেকটা ঠিক । যখন যা মনে আসে-
কেন মনে আসে ?
-কী চাও, বলো তো সত্যি ? কথা ঘুরিয়ো না
-আশীর্বাদ !
-আশীর্বাদ ? আমার, না সত্যি যিনি দেবী
-তুমিই তো সেই ! টেবিলের ঐ পাশে
ফিকে লাল শাড়ি
আঙ্গুলে ছোঁয়ানো থুতনি,
উঠে এসো
আশীর্বাদ দাও, মাথার ওপরে রাখো হাত
আশীর্বাদে আশীর্বাদে আমাকে পাগল করে তোলো
খিমচে ধরো চুল, আমার কপাল
নোখ দিয়ে চিরে দাও
-যথেষ্ট পাগল আছো ! আরও হতে চাও বুঝি ?
-তোমাকে দেখলেই শুধু এরকম, নয়তো কেমন
শান্তশিষ্ট
-না দেখাই ভালো তবে ! তাই নয় ?
-ভালো মন্দ জেনে শুনে যদি এ-জীবন
কাটাতুম
তবে সে-জীবন ছিল শালিকের, দোয়েলের
বনবিড়ালের কিংবা মহাত্মা গান্ধীর
ইরি ধানে, ধানের পোকার যে-জীবন
-যে জীবন মানুষের ?
-আমি কি মানুষ নাকি ? ছিলাম মানুষ বটে
তোমাকে দেখার আগে
-তুমি সোজাসুজি তাকাও চোখের দিকে
অনেকক্ষণ চেয়ে থাকো
পলক পড়ে না
কী দেখো অমন করে ?
-তোমার ভিতরে তুমি, শাড়ি-সজ্জা খুলে ফেললে
তুমি
তারা আড়ালে যে তুমি
-সে কি সত্যি আমি ? না তোমার নিজের কল্পনা
-শোন্ খুকী
-এই মাত্র দেবী বললে-
-একই কথা ! কল্পনা আধার যিনি, তিনি দেবী-
তুই সেই নীরা
তোর কাছে আশীর্বাদ চাই
-সে আর এমন কি শক্ত ? এক্ষুনি তা দিতে পারি
-তোমার অনেক আছে, কণা মাত্র দাও
-কী আছে আমার ? জানি না তো
-তুমি আছো, তুমি আছো, এর চেয়ে বড় সত্য নেই
-সিঁড়ির ওপরে সেই দেখা
তখন তো বলোনি কিছু ?
আমার নিঃসঙ্গ দিন, আমার অবেলা
আমারই নিজস্ব--শৈশবের হাওয়া শুধু জানে
-দেবে কি দুঃখের অংশভাগ ? আমি
ধনী হবো
-আমার তো দুঃখ নেই--দুঃখের চেয়েও
কোনো সুমহান আবিষ্টতা
আমাকে রয়েছে ঘিরে
তার কোনো ভাগ হয় না
আমার কী আছে আর, কী দেবো তোমাকে ?
-তুমি আছো, তুমি আছো, এর চেয়ে বড় সত্য নেই !
তুমি দেবী, ইচ্ছে হয় হাঁটু গেড়ে বসি
মাথায় তোমার করতল, আশীর্বাদ...
তবু সেখানেও শেষ নেই
কবি নয়, মুহূর্তে পুরুষ হয়ে উঠি
অস্থির দু'হাত
দশ আঙুলে আঁকড়ে ধরতে চায়
সিংহিনীর মতো ঐ যে তোমার কোমর
অবোধ শিশুর মতো মুখ ঘষে তোমার শরীরে
যেন কোনো গুপ্ত সংবাদের জন্য ছটফটানি
-পুরুষ দূরত্বে যাও, কবি কাছে এসো
তোমায় কী দিতে পারি ?
-কিছু নয় !
-অভিমান ?
-নাম দাও অভিমান !
-এটা কিন্তু বেশ ! যদি
অসুখের নাম দিই নির্বাসন
না-দেখার নাম দিই অনস্তিত্ব
দূরত্বের নাম দিই অভিমান ?
-কতটুকু দূরত্ব ? কী, মনে পড়ে ?
-কী করে ভাবলে যে ভুলবো ?
-তুমি এই যে বসে আছো, আঙুলে ছোঁয়ানো থুতনি
কপালে পড়েছে চূর্ণ চুল
পাড়ের নক্সায় ঢাকা পা
ওষ্ঠাগ্রে আসন্ন হাসি-
এই দৃশ্যে অমরত্ব
তুমি তো জানো না, নীরা,
আমার মৃত্যুর পরও এই ছবি থেকে যাবে ।
-সময় কি থেমে থাকবে ? কী চাও আমার কাছে ?
-মৃত্যু ?
-ছিঃ , বলতে নেই
-তবে স্নেহ ? আমি বড় স্নেহের কাঙাল
-পাওনি কি ?
-বুঝতে পারি না ঠিক । বয়স্ক পুরুষ যদি স্নেহ চায়
শরীরও সে চায়
তার গালে গাল চেপে দিতে পারো মধুর উত্তাপ ?
-ফের পাগলামি ?
-দেখা দাও ।
-আমিও তোমায় দেখতে চাই ।
-না !
-কেন ?
-বোলো না । কক্ষনো বোলো না আর এ কথা
আমি ভয় পাবো ।
এ শুধুই এক দিকের
আমি কে ? সামান্য, অতি নগণ্য, কেউ না
তুবি এত স্পর্ধা করে তোমার রূপের কাছে--
-তুমি কবি ?
-তা কি মনে থাকে ? বারবার ভুলে যাই
অবুঝ পুরুষ হয়ে কৃপাপ্রার্থী
-কী চাও আমার কাছে ?
-কিছু নয় । আমার দু'চোখে যদি ধুলো পড়ে
আঁচলের ভাপ দিয়ে মুছে দেবে ?
একবার বলেছি তোমাকে
............
একবার বলেছি, তোমাকে আমি ভালোবাসি।
একবার বলেছি, তোমাকে আমি, তোমাকেই ভালোবাসি।
বল
এখন সে কথা আমি ফেরাব কেমনে !
আমি একবার বলেছি তোমাকে …
এখন তোমাকে আমি ঘৃণা করি।
এখন তোমার
দৃষ্টির কবলে এলে ক্ষতস্থান জ্বলে জ্বলে ওঠে।
তোমার সান্নিধ্যে এলে তুমি উষ্ণ নাভিমূল থেকে
বাতাসে ছড়াও তীব্র সাপিনীর তরল নিঃস্বাস। আমি
যতবার ছুটতে চাই, তোমার দৃষ্টির বাইরে যেতে চাই, তুমি
দু চোখে কী ইন্দ্রজাল মেলে রাখ ! আমি ছুটতেও পারি না
আমি ফেরাতে পারি না কথা
আমি একবার বলেছি, তোমাকে …
সম্রাজ্ঞীর বেশে আছ। নতজানু আমি
দাসানুদাসের ভঙ্গি করপুটে, দেখি
তোমার মুখের রেখা অবিচল, স্থির জঙ্ঘা তোলে না টঙ্কার,
তুমি পবিত্রতা পবিত্রতা বলে
অস্পষ্ট চিত্কার কর, তুমি
কেবলি মালিন্য দেখ, অশ্লীলতা, ক্রমান্বয়ে ঘৃণা
ক্রোধ বাড়ে, উত্তেজনা বাড়ে
নামে উষ্ণ জলস্রোত। তুমি
এইভাবে প্রবল ঘৃণায়
আমাকে ভাসিয়ে দিয়ে অহঙ্কার রাখতে চাও অটুট। তবুও
পৃথিবীতে আছে কিছু মানুষের অবস্থান, তারা
অপমানে ধন্য হয়
উপেক্ষায় ঋজু;
তারা স্বভাব-কাঙাল ! যদি
একবার বলে তবে ফেরাতে পারে না। আমি
ফেরাতে পারি না। আমি
একবার বলেছি, তোমাকে আমি ভালোবাসি।
ভালোবাসা ভালোবাসা ভালোবাসা
ভালোবাসা ! সে কেমন, কোন দীপ্র স্বর্গীয় প্রতাপ
যার মৃত্যু নেই
জন্মান্তর নেই?
Wednesday, June 23, 2010
যা হারিয়ে যায় তা আগলে ব’সে রইব কত আর
যা হারিয়ে যায় তা আগলে ব'সে রইব কত আর ?
আর পারি নে রাত জাগতে, হে নাথ, ভাবতে অনিবার ।।
আছি রাত্রি দিবস ধ'রে দুয়ার আমার বন্ধ ক'রে
আসতে যে চায় সন্দেহে তায় তাড়াই বারে বার ।।
তাই তো কারো হয় না আসা আমার একা ঘরে ।
আনন্দময় ভুবন তোমার বাইরে খেলা করে ।
তুমিও বুঝি পথ নাহি পাও, এসে এসে ফিরিয়া যাও-
রাখতে যা চাই রয় না তাও, ধুলায় একাকার ।।
Saturday, February 13, 2010
আমি যদি হতাম
আমি যদি হতাম বনহংস;
বনহংসী হতে যদি তুমি;
কোনো এক দিগন্তের জলসিঁড়ি নদীর ধারে
ধানক্ষেতের কাছে
ছিপছিপে শরের ভিতর
এক নিরালা নীড়ে;
তাহলে আজ এই ফাল্পুনের রাতে
ঝাউয়ের শাখার পেছনে চাঁদ উঠতে দেখে
আমরা নিম্নভূমির জলের গন্ধ ছেড়ে
আকাশের রুপালি শস্যের ভিতর গা ভাসিয়ে দিতাম-
তোমার পাখনায় আমার পালক, আমার পাখনায় তোমার রক্তের স্পন্দন-
নীল আকাশে খইক্ষেতের সোনালি ফুলের মতো অজস্র তারা,
শিরীষ বনের সবুজ রোমশ নীড়ে
সোনার ডিমের মতো
ফাল্গুনের চাঁদ।
হয়তো গুলির শব্দঃ
আমাদের তির্যক গতিস্রোত,
আমাদের পাখায় পিস্টনের উল্লাস,
আমাদের কন্ঠে উত্তর হাওয়ার গান!
হয়তো গুলির শব্দ আবারঃ
আমাদের স্তব্ধতা,
আমাদের শান্তি।
আজকের জীবনের এই টুকরো টুকরো মৃত্যু আর থাকত না:
থাকত না আজকের জীবনের টুকরো টুকরো সাধের ব্যর্থতা ও অন্ধকার;
আমি যদি বনহংস হতাম,
বনহংসী হতে যদি তুমি;
কোনো এক দিগন্তের জলসিড়ি নদীর ধারে
ধানক্ষেতের কাছে।
শুধু একবার তোমাকে ছোঁব ...
শুধু তোমাকে একবার ছোঁব,
ঐ আনন্দে কেটে যাবে সহস্র জীবন।
শুধু তোমাকে একবার ছোঁব,
অহংকারে মুছে যাবে সকল দীনতা।
শুধু তোমাকে একবার ছোঁব,
স্পশসুখে লিখা হবে অজস্র কবিতা।
শুধু তোমাকে একবার ছোঁব,
শুধু একবার পেতে চাই অমৃত আস্বাদ।
শুধু তোমাকে একবার ছোঁব,
অমরত্ব বন্দী হবে হাতের মুঠোয়।
শুধু তোমাকে একবার ছোঁব,
তারপর হব ইতিহাস।
Monday, January 25, 2010
ইচ্ছে ছিল
ইচ্ছে ছিল রাজা হব
তোমাকে সম্রাজ্ঞী করে সাম্রাজ্য বাড়াবো
ইচ্ছে ছিল তোমাকেই সুখের পতাকা করে
শান্তির কপোত করে হৃদয়ে উড়াবো।
ইচ্ছে ছিল সুনিপুণ মেকআপ-ম্যানের মতো
সূর্যালোকে কেবল সাজাবো,তিমিরের সারাবেলা
পৌরুষের প্রেম দিয়ে তোমাকে বাজাবো, আহা তুমুল বাজাবো।
ইচ্ছে ছিল নদীর বক্ষ থেকে জলে জলে শব্দ তুলে
রাখব তোমার দুই লাজুক চঞ্চুতে,
জন্মাবধি আমার শীতল চোখ
তাপ নেবে তোমার দু’চোখে।
ইছে ছিল রাজা হবো
তোমাকে সম্রজ্ঞী করে সাম্রাজ্য বাড়াবো,
আজ দেখি রাজ্য আছে
রাজা আছে
ইচ্ছে আছে
শুধু তুমি অন্য ঘরে।