Wednesday, November 25, 2009
নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ
আজি এ প্রভাতে রবির কর
কেমনে পশিল প্রাণের 'পর,
কেমনে পশিল গুহার আঁধারে প্রভাতপাখির গান!
না জানি কেন রে এতদিন পরে জাগিয়া উঠিল প্রাণ।
জাগিয়া উঠেছে প্রাণ,
ওরে উথলি উঠেছে বারি,
ওরে প্রাণের বাসনা প্রাণের আবেগ রুধিয়া রাখিতে নারি।
থর থর করি কাঁপিছে ভূধর,
শিলা রাশি রাশি পড়িছে খসে,
ফুলিয়া ফুলিয়া ফেনিল সলিল
গরজি উঠিছে দারুণ রোষে।
হেথায় হোথায় পাগলের প্রায়
ঘুরিয়া ঘুরিয়া মাতিয়া বেড়ায়--
বাহিরিতে চায়, দেখিতে না পায় কোথায় কারার দ্বার।
কেন রে বিধাতা পাষাণ হেন,
চারি দিকে তার বাঁধন কেন!
ভাঙ্ রে হৃদয়, ভাঙ্ রে বাঁধন,
সাধ্ রে আজিকে প্রাণের সাধন,
লহরীর 'পরে লহরী তুলিয়া
আঘাতের 'পরে আঘাত কর্।
াতিয়া যখন উঠেছে পরান
কিসের আঁধার, কিসের পাষাণ!
উথলি যখন উঠেছে বাসনা
জগতে তখন কিসের ডর!
আমি ঢালিব করুণাধারা,
আমি ভাঙিব পাষাণকারা,
আমি জগৎ প্লাবিয়া বেড়াব গাহিয়া
আকুল পাগল-পারা।
কেশ এলাইয়া, ফুল কুড়াইয়া,
রামধনু-আঁকা পাখা উড়াইয়া,
রবির কিরণে হাসি ছড়াইয়া দিব রে পরাণ ঢালি।
শিখর হইতে শিখরে ছুটিব,
ভূধর হইতে ভূধরে লুটিব,
হেসে খলখল গেয়ে কলকল তালে তালে দিব তালি।
এত কথা আছে, এত গান আছে, এত প্রাণ আছে মোর,
এত সুখ আছে, এত সাধ আছে-- প্রাণ হয়ে আছে ভোর।।
কী জানি কী হল আজি, জাগিয়া উঠিল প্রাণ--
দূর হতে শুনি যেন মহাসাগরের গান।
ওরে, চারিদেকে মোর
এ কী কারাগার ঘোর--
ভাঙ্ ভাঙ্ ভাঙ্ কারা, আঘাতে আঘাত কর্।
ওরে আজ কী গান গেয়েছে পাখি,
এসেছে রবির কর।।
Wednesday, November 18, 2009
১৪০০ সাল
আজি হতে শতবর্ষ পরে
কে তুমি পড়িছ বসি আমার কবিতাখানি
কৌতুহলভরে,
আজি হতে শতবর্ষ পরে!
আজি নব বসন্তের প্রভাতের আনন্দের
লেশমাত্র ভাগ,
আজিকার কোনো ফুল, বিহঙ্গের কোনো গান,
আজিকার কোনো রক্তরাগ-
অনুরাগে সিক্ত করি পারিব কি পাঠাইতে
তোমাদের করে,
আজি হতে শতবর্ষ পরে?
তবু তুমি একবার খুলিয়া দক্ষিণদ্বার
বসি বাতায়নে
সুদূর দিগন্তে চাহি কল্পনায় অবগাহি
ভেবে দেখো মনে-
একদিন শতবর্ষ আগে
চঞ্চল পুলকরাশি কোন্ স্বর্গ হতে ভাসি
নিখিলের মর্মে আসি লাগে,
নবীন ফাল্গুনদিন সকল-বন্ধন-হীন
উন্মত্ত অধীর,
উড়ায়ে চঞ্চল পাখা পুষ্পরেণুগন্ধমাখা
দক্ষিণসমীর
সহসা আসিয়া ত্বরা রাঙায়ে দেয়েছে ধরা
যৌবনের রাগে,
তোমাদের শতবর্ষ আগে।
সেদিন উতলা প্রাণে, হৃদয় মগন গানে,
কবি একা জাগে-
কত কথা পুষ্প প্রায় বিকশি তুলিতে চায়
কত অনুরাগে,
একদিন শতবর্ষ আগে।
আজি হতে শতবর্ষ পরে
এখন করিছে গান সে কোন্ নুতন কবি
তোমাদের ঘরে!
আজিকার বসন্তের আনন্দ-অভিবাদন
পাঠায়ে দিলাম তাঁর করে।
আমার বসন্তগান তোমার বসন্তদিনে
ধ্বনিত হউক ক্ষণতরে-
হৃদয়স্পন্দনে তব, ভ্রমরগুঞ্জনে নব,
পল্লবমর্মরে,
আজি হতে শতবর্ষ পরে।।
Thursday, November 12, 2009
তৃষ্ণা
কোনো প্রাপ্তিই পূর্ণ প্রাপ্তি নয়
কোনো প্রাপ্তির দেয় না পূর্ণ তৃপ্তি
সব প্রাপ্তি ও তৃপ্তি লালন করে
গোপনে গহীনে তৃষ্ণা তৃষ্ণা তৃষ্ণা।
আমার তো ছিলো কিছু না কিছু যে প্রাপ্য
আমার তো ছিলো কাম্য স্বল্প তৃপ্তি
অথচ এ পোড়া কপালের ক্যানভাসে
আজন্ম শুধু শুন্য শুন্য শুন্য।
তবে বেঁচে আছি একা নিদারুণ সুখে
অনাবিষ্কৃত আকাঙ্ক্ষা নিয়ে বুকে
অবর্ণনীয় শুশ্রূষাহীন কষ্টে
যায় যায় দিন ক্লান্ত ক্লান্ত ক্লান্ত।
Friday, October 9, 2009
অভিসার মানে যাওয়া কিন্তু যাওয়া ততটা নয় যতটা যেতে চাওয়া
করতে করতে আমার মায়ের খোলা গলায় নিজের মনে গেয়ে
যাওয়া রবীন্দ্র সঙ্গীত-আমার কাছে রবীন্দ্রনাথ মানে এই সব।
আমার কাছে রবীন্দ্রনাথ মানে ২৫শে বৈশাখের আনন্দ উতসব
নয়,বাইশে শ্রাবেণের ব্যথা নয়, জোড়াসাকুর ঠাকুরবাড়ি কিংবা
বোলপুড়ির বিশ্বভারতী আমি কোথাও তাকে তেমন ভাবে পাইনা।
যেমন পাই আমার মায়ের খোলা গলার গানে তবে তাও যখন তখন
কিংবা যেমন তেমন নয়। সন্ধ্যার অন্ধকার ঘনিয়ে আসা শেষ বিকেলে
আমার মা যখন অফিস থেকে ফিরে স্নানঘরে শুদ্ধ হতে যান তখন।
আমার মা, আমার মা কখনো গান শিখেননি
কেন শিখেননি? এমন গলা
মা বলেন ?রবি ঠাকুরের গান তো তানের নয়... প্রানের। তাই?
আমার মায়ের একটি প্রিয় গান
?কাঁদালে তুমি মোরে ভালোবাসারই ঘায়ে?
নিবিড় বেদনাতে পুলক লাগে গায়ে
তোমার অভিসারে যাব অগম-পারে
চলিতে পথে পথে বাজুক ব্যথা পায়ে?
গানটা মায়ের মুখে শুনতে শুনতে
এ গানটা কখন আমার আপনার হয়ে গেছে।
সেদিন বিকেল হতে না হতেই অন্ধকার ঘনিয়ে এলো
আমাদের এক রত্তি বাগানে কচি কচি গাছগুলো
ভেজা ভেজা বাতাসে উথাল পাথাল হতে লাগলো
ঝর ঝর বৃষ্টির অবিরাম ধারায় ভিজতে ভিজতে
আমি মায়ের মতোই খোলা গলায় গাইতে লাগলাম
তোমার অভিসারে যাব অগম-পারে
চলিতে পথে পথে বাজুক ব্যথা পায়ে
-অভিসার মানে কি মা?
মা বললেন। ?অভিসার কোথায় পেলে??
-কেন? তোমার গানে
-আমার গানে অভিসার? ও তোমারো অভিসারে যাবো অগম-পারে
-হ্যাঁ ঠিক ওখানে
-অভিসার মানে যাওয়া কিন্তু যাওয়া ততটা নয় যতটা যেতে চাওয়া
সপসপে ভিজে জামায় বাড়িতে এসে দেখি
বাবা অফিস থেকে ফিরে এসেছে কখন
বললেন, বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে কোনো বর্ষার গান এলো না মনে?
বাবাকে আমি কেমন করে বোঝাই যে
অভিসার শব্দের মানেটা এখন আমি জেনে গেছি
আজি জেনেছি , জেনেছি ভালোবাসার আঘাতে কেমন করে কাঁদা যায়
এইসব নিয়েই আমার রবীন্দ্রনাথ
আমার রবীন্দ্রনাথকে আমি এভাবেই মেঘলা আকাশে
বাদল বাতাসে, সাবেনের গন্ধে, জল পড়ার শব্দে,
বিকেলের মরে যাওয়া আলো অন্ধকারে বার বার পেতে চাই,
বছরের পর বছর প্রতি বছর! যত দিন যাবে
কথায় কথায় যে রাত হয়ে যায়
কথায় কথায় যে রাত হয়ে যায়
কি কথা রাখলে বাকী
খুঁজে দেখনা বুঝে দেখনা
ভেবে দেখনা তাকি জাননা
কিছু না বলে চে গিয়ে
মনকে দিওনা ফাঁকি ।
তোমার চোখের আলোয়
আমি এ মন করেছি আলো
আমায় ভালো বাসায়
তুমি প্রকাশ প্রদীপ জ্বালো
প্রিয় ভাষিনী কথা রাখনি
আশায় আশায় কত যে আর
শুধুই বসে থাকি ।
আজ কি তোমার স্বপন দেখার
সময় নিয়ে নিয়ে
যায়রে সব হারিয়ে
তোমার প্রথম ডাকে
আমি অনেক দিয়েছি সাড়া
তোমার মনের ছায়ায়
আমি ঘুরে ঘুরে দিশাহারা
প্রিয় ভাষিনী কথা রাখনি
ফাগুন এসে অজান্তে আজ
হোল কি বৈশাখী ।
Wednesday, October 7, 2009
আমি কিরকম ভাবে বেঁচে আছি
আমি কীরকম ভাবে বেঁচে আছি তুই এসে দেখে যা নিখিলেশ
এই কী মানুষজন্ম? নাকি শেষ
পরোহিত-কঙ্কালের পাশা খেলা! প্রতি সন্ধ্যেবেলা
আমার বুকের মধ্যে হাওয়া ঘুরে ওঠে, হৃদয়কে অবহেলা
করে রক্ত; আমি মানুষের পায়ের পায়ের কাছে কুকুর হয়ে বসে
থাকি-তার ভেতরের কুকুরটাকে দেখবো বলে। আমি আক্রোশে
হেসে উঠি না, আমি ছারপোকার পাশে ছারপোকা হয়ে হাঁটি,
মশা হয়ে উড়ি একদল মশার সঙ্গে; খাঁটি
অন্ধকারে স্ত্রীলোকের খুব মধ্যে ডুব দিয়ে দেখেছি দেশলাই জ্বেলে-
(ও-গাঁয়ে আমার কোনো ঘরবাড়ি নেই!)
আমি স্বপ্নের মধ্যে বাবুদের বাড়িরে ছেলে
সেজে গেছি রঙ্গালয়ে, পরাগের মতো ফুঁ দিয়ে উড়িয়েছি দৃশ্যলোক
ঘামে ছিল না এমন গন্ধক
যাতে ক্রোধে জ্বলে উঠতে পার। নিখিলেশ, তুই একে
কী বলবি? আমি শোবার ঘরে নিজের দুই হাত পেকেরে
বিঁধে দেখতে চেয়েছিলাম যীশুর কষ্ট খুব বেশি ছিল কিনা;
আমি ফুলের পাশে ফূল হয়ে ফূটে দেখেছি, তাকে ভালোবাসতে পারি না।
আমি ফুলের পাশে ফূল হয়ে ফূটে দেখেছি, তাকে ভালোবাসতে পারি না।
আমি কপাল থেকে ঘামের মতন মুছে নিয়েছি পিতামহের নাম,
আমি শ্মশানে গিয়ে মরে যাবার বদলে, মাইরি, ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।
নিখিলেশ, আমি এই-রকমভাবে বেঁচে আছি, তোর সঙ্গে
জীবনবদল করে কোনো লাভ হলো না আমার -একি নদীর তরঙ্গে
ছেলেবেলার মতো ডুব সাঁতার?- অথবা চশমা বদলের মতো
কয়েক মিনিট আলোড়ন? অথবা গভীর রাত্রে সঙ্গমনিরত
দম্পতির পাশে শুয়ে পুনরায় জন্ম ভিক্ষা? কেননা সময় নেই,
আমার ঘরের
দেয়ালের চুন-ভাঙা দাগটিও বড় প্রিয়। মৃত গাছটির পাশে উত্তরের
হাওয়ায় কিছুটা মায়া লেগে ভুল নাম, ভুল স্বপ্ন থেকে বাইরে এসে
দেখি উইপোকায় খেয়ে গেছে চিঠির বান্ডিল, তবুও অক্লেশে
হলুদকে হলুদ বলে ডাকতে পারি। আমি সর্বস্ব বন্ধক দিয়ে একবার
একটি মুহূর্ত চেয়েছিলাম, একটি ….., ব্যক্তিগত জিরো আওয়অর;
ইচ্ছে ছিল না জানাবার
এই বিশেষ কথাটা তোকে। তবু ক্রমশই বেশি করে আসে শীত, রাত্রে
এ-রকম জলতেষ্টা আর কখনও পেতো না, রোজ অন্ধকার হাত্ড়ে
টের পাই তিনটে ইঁদুর না মূষিক? তা হলে কি প্রতীক্ষায়
আছে অদুরেই সংস্কৃত শ্লোক? পাপ ও দুঃখের কথা ছাড়া আর এই অবেলায়
কিছুই মনে পড়ে না। আমার পূজা ও নারী-হত্যার ভিতরে
বেজে ওঠে সাইরেন। নিজের দু’হাত যখন নিজেদের ইচ্ছে মতো কাজ করে
তখন মনে হয় ওরা সত্যিকারের। আজকাল আমার
নিজের চোখ দুটোও মনে হয় একপলক সত্যি চোখ। এরকম সত্য
পৃথিবীতে খুব বেশী নেই আর।।
Sunday, October 4, 2009
জল বাড়ছে
কেউ জানে না, গোপন- গোপনে জল উঠছে
জল বাড়ছে তিস্তায়, জল বাড়ছে তোর্সা
রাইডাক কালজানি নদীতে
জল বাড়ছে, জল বাড়ছে, শুকনো নদীগুলো
এখন উন্মাদিনী
নেমে আসছে পাহাড়ী ঢল, ভেসে যাচ্ছে ফসলের ক্ষেত,
ভেঙে পড়ছে চা-বাগান
ডুবছে গ্রাম, চুয়াপাড়া, হাসিমারা, বাকসাদুয়ার
জল বাড়ছে মহানন্দায়, জল বাড়ছে পুনর্ববা
নাগর এবং কালিন্দীতে
ক্রুদ্ধ বিদ্রোহী জল ফুঁসে ফুঁসে উঠছে
ঝাপটা মারছে হাতে হাত মিলিয়ে
ভেঙে পড়ছে ভালুকা, রতুয়া, বলরামপুর, ইংলিশবাজার
ঘুমন্ত গ্রামগুলির ওপর দিয়ে হুড়হুড় করে
এগিয়ে আসছে জলস্রোত
জল বাড়ছে অজয়, মুন্ডেশ্বরী, কেলেঘাই নদীতে
জল বাড়ছে গঙ্গায়, পদ্মায়, যমুনায়, দামোদরে
জল বাড়ছে, জল বাড়ছে
রোগা জল, কালো জল, দুঃখী জল, ভীতু জল
বুকের পাঁজরার মতো, তানপুরায় টঙ্কারের মতো
উড়ন্ত রুমালের মতো
জলের চঞ্চল খেলা
শত-শত ভ্রমরীর সহসা দিগন্তে উড়ে যাওয়া
অন্তরীক্ষ জুড়ে একটা ঘোর শব্দ- যা সংগীত নয়
ফারাক্কা ডি-ভি-সি’র বাঁধে প্রবল ধাক্কা দিচ্ছে জল
যেন লক্ষ-লক্ষ বাহু-
এবার সব ভেঙে পড়বে
জল উপচে এসে বর্ধমান, আসানসোল, দুর্গাপুরে
শোনা যাচ্ছে সমিমিলিত গর্জন
ওরা আর পিছিয়ে যাবে না
জল বাড়ছে, জল বাড়ছে
সমস্ত ঘুম ভেঙে দেবে এবার
জল গড়িয়ে এসেছে কলকাতার ময়দানে
চতুর্দিকে থেকে শহরকে ঘিরে দৌড়ে আসছে ওরা
লাল, নীল, সবুজ বিভিন্ন রঙের
পতাকা ওড়ানো অফিসে দুমদাম করে
ধাক্কা দিচ্ছে জল
জল বাড়ছে, জল বাড়ছে
এইমাত্র তারা ঢুকে এলো অফিস পাড়ায়
বিনয় বাদল দীনেশের মতো দুর্দান্ত সাহসী জল
লাফিয়ে উঠে পড়লো রাইটার্স বিল্ডিংস এর বারান্দায়…..
Thursday, October 1, 2009
দ্বিধা
আমি এখনো বহু বিষয়ে মন ঠিক করতে পারিনি
যেমন কোনোদিন আমি বিয়ে করবো কি করবো না
অথবা কোনোদিন যাবো কি না বেশ্যালয়ে
কাউকে কখনো খুন করবো কি,
কোনোদিন চরস খেয়ে পড়ে থাকবো কিনা রাস্তায়
অথবা কিনা কোনো ফকির দরবেশের সাথে চলে
যাবো ধর্মশালায়
কোনো একদিন লাটভবনের সামনে দাঁড়িয়ে আমাদের এই দুঃখ-
ধান্ধার জন্যে
খুব চেঁচিয়ে গালাগাল করবো কি না
একদিন সারারাত ঢিল ছুঁড়ে ভাঙবো কিনা ডিআইটি-র ঘরি
কোনোদিন সন্ধ্যেবেলা
পাওয়ার হাউসের সুইচটা টিপে
সারা শহরে বাধিয়ে দেবো কি না ভুতুরে কান্ড
……………………………….
……………………………….
মতিঘিলের বাণিজ্য এলাকায় পর পর কয়েক সপ্তাহ চালাবো
কিনা হরতাল
অথবা সস্তা জনসেবার বক্তৃতা দিয়ে নিজের আখের গোছাবো কিনা
নাকি হুজুর হুজুর করে কাটিয়ে দেবো জীবনটা
সত্যি কোনোদিন আমি এই দায়িত্বশীল লোকটা
যাচ্ছেতাই একটা কিছু করে বসবো কিনা
এমনি বহু বিষয়ে আমি এখনো মন ঠিক করতে পারিনি-
আপন মানুষদের কাছে ফিরে যাবো
----------------- মহাদেব সাহা
আপন মানুষদের কাছে ফিরে যাবো
এখানে মানুষ থাকে, এই নির্দয় নিষ্প্রাণ দেশে,
এই লৌহপুরীতে?
এই শহরের ভিড়ে পাখিদের ওড়াউড়ি নেই,
গাভীর হাম্বা রব কখনো শুনি না;
শুধু অচেনা মানুষের কোলাহল, গাড়ির কর্কশ শব্দ
বাড়ির উঠানে এখানে ওঠে না চাঁদ, নদীময় তারাভরা
দেখি না আকাশ
জুড়ায় না ক্লান্ত দেহ দখিনা বাতাস
এখানে মানুষেরা এক সাথে হেঁটে যায় কেই কাউকে চেনে না, মানুষ
এখানে থাকে?
ঢের হয়েছে বিদ্যা, ঢের হয়েছে প্রাপ্তি, তবু যেটুকু জীবন
আছে, বুকে নিয়ে
এবার আপন মানুষদের কাছে ফিরে যাবো, গলা
ছেড়ে ডাকবো বাহার কাকা,
কানু ভাই তোমরা কোথায়?
ছি, এখানে মানুষ থাকে, এই সোনার খাঁচায়, ইটের জঙ্গলে,
বন্দিশালায়
হোটেলের বদ্ধ ঘরে, ফ্ল্যাট বাড়ির চার দেয়ালের মধ্যে
বৈদ্যুতিক আলোর এই অন্ধকারে,
এই স্নেহহীন, মায়াহীন, জলবায়ু শুন্য জতুগৃহে?
কতোদিন শুনি না ঘুঘুর ডাক, রাখালের বাঁশি,
টানা বাতাসের শব্দ
দেখিনা সবুজ মাঠ, উধাও দিগন্ত
ঘরের পিছনের ছোট্ট জংলায় দোয়েলের উড়াউড়ি,
কোথাও দেখিনা একটি ধানের শীষে গঙ্গাফড়িং,
লাউ জাংলার পাশে স্থলপদ্ম,
এখানে কী পেয়েছি প্রচুর সুখ, পেয়েছি প্রচুর শান্তি,
এবার অর্ধেক মানুষ আমি খুইয়ে এখানে
সব অনুভুতি, শুদ্ধতা, আনন্দ
সেই আপন মানুষদের কাছে ফিরে যাবো।
সেই বন্ধুগাছ, বন্ধুপাখি, ডোবার কচুরি ফুল,
সেই কাদামাটি জলে ভেজা বাড়ি
কাজলাদিদির কথা লেখা সেই পাঠ্যবই, তোমাদের কারো
কিছুই জানি না;
পাখিরা যেমন আপন পাখিদের সাথে মিশে যায়
আমিও তেমনি আপন মানুষদের মাঝে মিশে যাবো
প্রিয় বৃক্ষ, প্রিয় নদী, আপন মানুষ।
উপেক্ষা
-------- নির্মলেন্দু গুণ
অনন্ত বিরহ চাই, ভালোবেসে কার্পণ্য শিখিনি৷
তোমার উপেক্ষা পেলে অনায়াসে ভুলে যেতে পারি
সমস্ত বোধের উত্স গ্রাস করা প্রেম; যদি চাও
ভুলে যাবো, তুমি শুধু কাছে এসে উপেক্ষা দেখাও৷
আমি কি ডরাই সখি, ভালোবাসা ভিখারি বিরহে?
অমলকান্তি
--------------- নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
অমলকান্তি আমার বন্ধু,
ইস্কুলে আমরা একসঙ্গে পড়তাম।
রোজ দেরি করে ক্লাসে আসতো, পড়া পারত না,
শব্দরূপ জিজ্ঞেস করলে
এমন অবাক হয়ে জানলার দিকে তাকিয়ে থাকতো যে,
দেখে ভারী কষ্ট হত আমাদের।
আমরা কেউ মাষ্টার হতে চেয়েছিলাম, কেউ ডাক্তার, কেউ উকিল।
অমলকান্তি সে-সব কিছু হতে চায়নি।
সে রোদ্দুর হতে চেয়েছিল!
ক্ষান্তবর্ষণ কাক-ডাকা বিকেলের সেই লাজুক রোদ্দুর,
জাম আর জামরুলের পাতায়
যা নাকি অল্প-একটু হাসির মতন লেগে থাকে।
আমরা কেউ মাষ্টার হয়েছি, কেউ ডাক্তার, কেউ উকিল।
অমলকান্তি রোদ্দুর হতে পারেনি।
সে এখন অন্ধকার একটা ছাপাখানায় কাজ করে।
মাঝে মধ্যে আমার সঙ্গে দেখা করতে আসে;
চা খায়, এটা-ওটা গল্প করে, তারপর বলে, “উঠি তাহলে।”
আমি ওকে দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে আসি।
আমাদের মধ্যে যে এখন মাষ্টারি করে,
অনায়াসে সে ডাক্তার হতে পারত,
যে ডাক্তার হতে চেয়েছিল,
উকিল হলে তার এমন কিছু ক্ষতি হত না।
অথচ, সকলেরই ইচ্ছেপূরণ হল, এক অমলকান্তি ছাড়া।
অমলকান্তি রোদ্দুর হতে পারেনি।
সেই অমলকান্তি–রোদ্দুরের কথা ভাবতে-ভাবতে
ভাবতে-ভাবতে
যে একদিন রোদ্দুর হতে চেয়েছিল।
স্নান
----------------জয় গোস্বামী
সংকোচে জানাই আজ: একবার মুগ্ধ হতে চাই।
তাকিয়েছি দূর থেকে। এতদিন প্রকাশ্যে বলিনি।
এতদিন সাহস ছিল না কোনো ঝর্ণাজলে লুণ্ঠিত হবার -
আজ দেখি অবগাহনের কাল পেরিয়ে চলেছি দিনে দিনে …
জানি, পুরুষের কাছে দস্যুতাই প্রত্যাশা করেছো।
তোমাকে ফুলের দেশে নিয়ে যাবে ব’লে যে-প্রেমিক
ফেলে রেখে গেছে পথে, জানি, তার মিথ্যে বাগদান
হাড়ের মালার মতো এখনো জড়িয়ে রাখো চুলে।
আজ যদি বলি, সেই মালার কঙ্কালগ্রন্থি আমি
ছিন্ন করবার জন্য অধিকার চাইতে এসেছি? যদি বলি
আমি সে-পুরুষ, দ্যাখো, যার জন্য তুমি এতকাল
অক্ষত রেখেছো ওই রোমাঞ্চিত যমুনা তোমার?
শোনো, আমি রাত্রিচর। আমি এই সভ্যতার কাছে
এখনো গোপন ক’রে রেখেছি আমার দগ্ধ ডানা;
সমস্ত যৌবন ধ’রে ব্যধিঘোর কাটেনি আমার। আমি একা
দেখেছি ফুলের জন্ম মৃতের শয্যার পাশে বসে,
জন্মান্ধ মেয়েকে আমি জ্যোৼস্নার ধারণা দেব ব’লে
এখনো রাত্রির এই মরুভুমি জাগিয়ে রেখেছি।
দ্যাখো, সেই মরুরাত্রি চোখ থেকে চোখে আজ পাঠালো সংকেত -
যদি বুঝে থাকো তবে একবার মুগ্ধ করো বধির কবিকে;
সে যদি সংকোচ করে, তবে লোকসমক্ষে দাঁড়িয়ে
তাকে অন্ধ করো, তার দগ্ধ চোখে ঢেলে দাও অসমাপ্ত চুম্বন তোমার…
পৃথিবী দেখুক, এই তীব্র সূর্যের সামনে তুমি
সভ্য পথচারীদের আগুনে স্তম্ভিত ক’রে রেখে
উন্মাদ কবির সঙ্গে স্নান করছো প্রকাশ্য ঝর্ণায়।
Wednesday, August 26, 2009
ভালো লাগার, ভালোবাসার তুমি ... আমার বাংলাদেশ
কন্ঠ আইয়ুব বাচ্চু
==================
মি প্রিয় কবিতার ছদ্ম উপমা, তুমি ছন্দের অন্ত্যমিল
তুমি বর্ষার প্রথম বৃষ্টি, তুমি পদ্ম ফোটা ঝিল
তুমি প্রিয়তমার স্নিগ্ধ হাতে বন্ধনের রাখী
তুমি কষ্টের নিভৃত কান্নায় ভরা যন্ত্রণার সবই
তুমি শীর্ষ অনুভূতির পরে শূণ্যতার বোধ
তুমি আলতো স্পর্শে প্রিয়ার চাহনি, দূরে থাকা ক্রোধ
তুমি ভোর রাত্রির প্রার্থনা, তুমি চেনা নদীর ঢেউ
তুমি শীতের সেই দিনগুলির শেষে হারিয়ে যাওয়া কেউ
তুমি ভ্রান্তি নও, বাস্তবতার শূণ্যভাতের থালা
তুমি লোভ ঘৃণার ব্যাকরণে, বিবেকের বদ্ধ তালা
তুমি সংঘাত আর প্রতিঘাতের অস্থির রাজপথ
তুমি আজ ও আগামীর মাঝে বেদনার নীল ক্ষত
তুমি চাওয়া না পাওয়ার ফাঁকে অসম সমীকরণ
তুমি অবুঝ রাগী প্রজন্মের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ
তুমি তারুণ্যের চোখের কোণে বিষণ্নতার বাস
তুমি বুড়োখোকাদের ইচ্ছেমত ভুলের ইতিহাস
তুমি উদ্ধত মিছিলের স্রোতে গর্বিত মুখ
তুমি ভুল নায়কের হাতছানিতে মায়ের শূণ্য বুক
তোমার মাঝেই স্বপ্নের শুরু
তোমার মাঝেই শেষ
ভালো লাগা ভালোবাসার তুমি
আমার বাংলাদেশ
তোমার মাঝেই স্বপ্নের শুরু
তোমার মাঝেই শেষ
জানি ভালো লাগা ভালোবাসার তুমি
আমার বাংলাদেশ
জানি ভালো লাগা ভালোবাসার তুমি
আমার বাংলাদেশ
আমার বাংলাদেশ
আমার বাংলাদেশ
আমার বাংলাদেশ
Wednesday, August 19, 2009
আমার এ প্রেম নয় তো ভীরু
আমার এ প্রেম নয় তো ভীরু,
নয় তো হীনবল -
শুধু কি এ ব্যাকুল হয়ে
ফেলবে অশ্রুজল।
মন্দমধুর সুখে শোভায়
প্রেম কে কেন ঘুমে ডোবায়।
তোমার সাথে জাগতে সে চায়
আনন্দে পাগল।
নাচ' যখন ভীষণ সাজে
তীব্র তালের আঘাত বাজে,
পালায় ত্রাসে পালায় লাজে
সন্দেহ বিহবল।
সেই প্রচন্ড মনোহরে
প্রেম যেন মোর বরণ করে,
ক্ষুদ্র আশার স্বর্গ তাহার
আমার মাঝে তোমার লীলা হবে
আমার মাঝে তোমার লীলা হবে,
তাই তো আমি এসেছি এই ভবে।
এই ঘরে সব খুলে যাবে দ্বার,
ঘুচে যাবে সকল অহংকার,
আনন্দময় তোমার এ সংসার
আমার কিছু আর বাকি না রবে।
মরে গিয়ে বাঁচব আমি, তবে
আমার মাঝে তোমার লীলা হবে।
সব বাসনা যাবে আমার থেমে
মিলে গিয়ে তোমারি এক প্রেমে,
দুঃখসুখের বিচিত্র জীবনে
তুমি ছাড়া আর কিছু না রবে।
আজি বসন্ত জাগ্রত দ্বারে
আজি বসন্ত জাগ্রত দ্বারে।
তব অবগুন্ঠিত কুন্ঠিত জীবনে
কোরো না বিড়ম্বিত তারে।
আজি খুলিয়ো হৃদয়দল খুলিয়ো,
আজি ভুলিয়ো আপনপর ভুলিয়ো,
এই সংগীতমুখরিত গগনে
তব গন্ধ করঙ্গিয়া তুলিয়ো।
এই বাহিরভূবনে দিশা হারায়ে
দিয়ো ছড়ায়ে মাধুরী ভারে ভারে।
অতি নিবিড় বেদনা বনমাঝে রে
আজি পল্লবে পল্লবে বাজে রে -
দূরে গগনে কাহার পথ চাহিয়া
আজি ব্যকুল বসুন্ধরা সাজে রে।
মোর পরানে দখিন বায়ু লাগিছে,
কারে দ্বারে দ্বারে কর হানি মাগিছে,
এই সৌরভবিহবল রজনী
কার চরণে ধরণীতলে জাগিছে।
ওগো সুন্দর, বল্লভ, কান্ত,
তব গম্ভীর আহবান কারে।
চিরদিনের
এখানে বৃষ্টিমুখর লাজুক গাঁয়ে
এসে থেমে গেছে ব্যস্ত ঘড়ির কাঁটা,
সবুজ মাঠেরা পথ দেয় পায়ে পায়ে
পথ নেই, তবু এখানে যে পথ হাঁটা।
জোড়া দীঘি, তার পাড়েতে তালের সারি
দূরে বাঁশঝাড়ে আত্মদানের সাড়া,
পচা জল আর মশায় অহংকারী
নীরব এখানে অমর কিষাণপাড়া।
এ গ্রামের পাশে মজা নদী বারো মাস
বর্ষায় আজ বিদ্রোহ বুঝি করে,
গোয়ালে পাঠায় ইশারা সবুজ ঘাস
এ গ্রাম নতুন সবুজ ঘাগরা পরে।
রাত্রি এখানে স্বাগত সান্ধ্য শাঁখে
কিষাণকে ঘরে পাঠায় যে আল-পথ;
বুড়ো বটতলা পরস্পরকে ডাকে
সন্ধ্যা সেখানে জড়ো করে জনমত।
দুর্ভিক্ষের আঁচল জড়ানো গায়ে
এ গ্রামের লোক আজো সব কাজ করে,
কৃষক-বধূরা ঢেঁকিকে নাচায় পায়ে
প্রতি সন্ধ্যায় দীপ জ্বলে ঘরে ঘরে।
রাত্রি হলেই দাওয়ার অন্ধকারে
ঠাকুমা গল্প শোনায় যে নাতনীকে,
কেমন ক'রে সে আকালেতে গতবারে,
চলে গেল লোক দিশাহারা দিকে দিকে।
এখানে সকাল ঘোষিত পাখির গানে
কামার, কুমোর, তাঁতী তার কাজে জোটে,
সারাটা দুপুর ক্ষেতের চাষীরা কানে
একটানা আর বিচিত্র ধ্বনি ওঠে।
হঠাৎ সেদিন জল আনবার পথে
কৃষক-বধূ সে থমকে তাকায় পাশে,
ঘোমটা তুলে সে দেখে নেয় কোনোমতে,
সবুজ ফসলে সুবর্ণ যুগ আসে।।
প্রিয়তমাসু
সীমান্তে আজ আমি প্রহরী।
অনেক রক্তাক্ত পথ অতিক্রম ক'রে
আজ এখানে এসে থমকে দাড়িয়েছি-
স্বদেশের সীমানায়।
দূসর তিউনিসিয়া থেকে স্নিগ্ধ ইতালী,
স্নিগ্ধ ইতালী থেকে ছুটে গেছি বিপ্লবী ফ্রান্সে
নক্ষত্রনিয়ন্ত্রিত নিয়তির মতো
দুর্নিবার, অপরাহত রাইফেল হাতে;
- ফ্রান্স থেকে প্রতিবেশী বার্মাতেও।
আজ দেহে আমার সৈনিকের কড়া পোশাক,
হাতে এখনো দুর্জয় রাইফেল,
রক্তে রক্তে তরঙ্গিত জয়ের আর শক্তির দুর্বহ দম্ভ,
আজ এখন সীমান্তের প্রহরী আমি।
আজ নীল আকাশ আমাকে পাঠিয়েছে নিমন্ত্রণ,
স্বদেশের হাওয়া বয়ে এনেছে অনুরোধ,
চোখের সামনে খুলে ধরেছে সবুজ চিঠিঃ
কিছুতেই বুঝি না কী ক'রে এড়াব তাকে?
কী ক'রে এড়াব এই সৈনিকের কড়া পোশাক?
যুদ্ধ শেষ। মাঠে মাঠে প্রসারিত শান্তি,
চোখে এসে লাগছে তারই শীতল হাওয়া,
প্রতি মুহূর্তে শ্লথ হয়ে আসে হাতের রাইফেল,
গা থেকে খসে পড়তে চায় এই কড়া পোশাক,
রাত্রে চাঁদ ওঠেঃ আমার চোখে ঘুম নেই।
তোমাকে ভেবেছি কতদিন,
কত শত্রুর পদক্ষেপ শোনার প্রতীক্ষার অবসরে,
কত গোলা ফাটার মুহূর্তে।
কতবার অবাধ্য হয়েছে মন, যুদ্ধজয়ের ফাঁকে ফাঁকে
কতবার হৃদয় জ্বলেছে অনুশোচনার অঙ্গারে
তোমার আর তোমাদের ভাবনায়।
তোমাকে ফেলে এসেছি দারিদ্র্যের মধ্যে
ছুঁড়ে দিয়েছি দুর্ভিক্ষের আগুনে,
ঝড়ে আর বন্যায়, মারী আর মড়কের দুঃসহ আঘাতে
বাব বার বিপন্ন হয়েছে তোমাদের অস্তিত্ব।
আর আমি ছুটে গেছি এক যুদ্ধক্ষেত্র থেকে আর এক যুদ্ধক্ষেত্র।
জানি না আজো, আছ কি নেই,
দুর্ভিক্ষে ফাঁকা আর বন্যায় তলিয়ে গেছে কিনা ভিটে
জানি না তাও।
তবু লিখছি তোমাকে আজঃ লিখছি আত্মম্ভর আশায়
ঘরে ফেরার সময় এসে গেছে।
জানি, আমার জন্যে কেউ প্রতীক্ষা ক'রে নেই
মালায় আর পতাকায়, প্রদীপে আর মঙ্গলঘটে;
জানি, সম্বর্ধনা রটবে না লোক মুখে,
মিলিত খুসিতে মিলবে না বীরত্বের পুরস্কার।
তবু, একটি হৃদয় নেচে উঠবে আমার আবির্ভাবে
সে তোমার হৃদয়।
যুদ্ধ চাই না আর, যুদ্ধ তো থেমে গেছে;
পদার্পণ করতে চায় না মন ইন্দোনেশিয়ায়
আর সামনে নয়,
এবার পেছনে ফেরার পালা।
পরের জন্যে যুদ্ধ করেছি অনেক,
এবার যুদ্ধ তোমার আর আমার জন্যে।
প্রশ্ন করো যদি এত যুদ্ধ ক'রে পেলাম কী? উত্তর তার-
তিউনিসিয়ায় পেয়েছি জয়,
ইতালীতে জনগণের বন্ধুত্ব,
ফ্রান্সে পেয়েছি মুক্তির মন্ত্র;
আর নিষ্কণ্টক বার্মায় পেলাম ঘরে ফেরার তাগাদা।
আমি যেন সেই বাতিওয়ালা,
সে সন্ধ্যায় রাজপথে-পথে বাতি জ্বালিয়ে ফেরে
অথচ নিজের ঘরে নেই যার বাতি জ্বালার সামর্থ্য,
নিজের ঘরেই জমে থাকে দুঃসহ অন্ধকার।।
অভিবাদন
হে সাথী, আজকে স্বপ্নের দিন গোনা
ব্যর্থ নয় তো, বিপুল সম্ভাবনা
দিকে দিকে উদ্যাপন করছে লগ্ন,
পৃথিবী সূর্য-তপস্যাতেই মগ্ন।
আজকে সামনে নিরুচ্চারিত প্রশ্ন,
মনের কোমল মহল ঘিরে কবোষ্ণ
ক্রমশ পুষ্ট মিলিত উন্মাদনা,
ক্রমশ সফল স্বপ্নের দিন গোনা।
স্বপ্নের বীজ বপন করেছি সদ্য,
বিদ্যুৎবেগে ফসল সংঘবদ্ধ!
হে সাথী, ফসলে শুনেছো প্রাণের গান?
দুরন্ত হাওয়া ছড়ায় ঐকতান।
বন্ধু, আজকে দোদুল্যমান পৃথ্বী
আমরা গঠন করব নতুন ভিত্তি;
তারই সুত্রপাতকে করেছি সাধন
হে সাথী, আজকে রক্তিম অভিবাদন।।
Saturday, August 15, 2009
যে টেলিফোন আসার কথা
যে টেলিফোন আসার কথা---পূর্ণেন্দু পত্রী
যে টেলিফোন আসার কথা সে টেলিফোন আসেনি।
প্রতীক্ষাতে প্রতীক্ষাতে
সূর্য ডোবে রক্তপাতে
সব নিভিয়ে একলা আকাশ নিজের শূন্য বিছানাতে।
একান্তে যার হাসির কথা হাসেনি।
যে টেলিফোন আসার কথা আসেনি।
অপেক্ষমান বুকের ভিতর কাঁসরঘন্টা শাখেঁর উলু
একশ বনের বাতাস এসে একটা গাছে হুলুস্থুলু
আজ বুঝি তার ইচ্ছে আছে
ডাকবে আলিঙ্গনের কাছে
দীঘির পাড়ে হারিয়ে যেতে সাঁতার জলের মত্ত নাচে।
এখনো কি ডাকার সাজে সাজেনি?
যে টেলিফোন বাজার কথা বাজেনি।
তৃষ্ণা যেন জলের ফোঁটা বাড়তে বাড়তে বৃষ্টি বাদল
তৃষ্ণা যেন ধূপের কাঠি গন্ধে আঁকে সুখের আদল
খাঁ খাঁ মনের সবটা খালি
মরা নদীর চড়ার বালি
অথচ ঘর দুয়ার জুড়ে তৃষ্ণা বাজায় করতালি
প্রতীক্ষা তাই প্রহরবিহীন
আজীবন ও সর্বজনীন
সরোবর তো সবার বুকেই, পদ্ম কেবল পর্দানশীন
স্বপ্নকে দেয় সর্বশরীর, সমক্ষে সে ভাসে না।
যে টেলিফোন আসার কথা সচরাচর আসে না।
প্রথম কবিতা- তোমাকে ভালোবেসে
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল;
তবুও এ জল কোথার থেকে এক নিমেষে এসে
কোথায় চলে যায়;
বুঝেছি আমি তোমাকে ভালোবেসে
রাত ফুরুলে পদ্মের পাতায়।
আমার মনে অনেক জন্ম ধরে ছিলো ব্যথা
বুঝে তুমি এই জন্মে হয়েছো পদ্মপাতা;
হয়েছো তুমি রাতের শিশির—
শিশির ঝরার স্বর
সারাটি রাত পদ্মপাতার পর;
তবুও পদ্মপত্রে এ জল আটকে রাখা দায়।
নিত্য প্রেমের ইচ্ছা নিয়ে তবুও চঞ্চল
পদ্মপাতায় তোমার জলে মিশে গেলাম জল;
তোমার আলোয় আলো হলাম,
তোমার গুণে গুণ;
অনন্তকাল স্থায়ী প্রেমের আশ্বাসে করুণ
জীবন ক্ষণস্থায়ী তবু হায়।
এই জীবনের সত্য তবু পেয়েছি এক তিল
পদ্মপাতায় তোমার আমার মিল।
আকাশ নীল, পৃথিবী এই মিঠে,
রোদ ভেসেছে; ঢেঁকিতে পাড় পড়ে;
পদ্মপত্র জল নিয়ে তার—জল নিয়ে তার নড়ে
পদ্মপত্রে জল ফুরিয়ে যায়।
কুয়ার ধারে
তোমার কাছে চাইনি কিছু, জানাই নি মোর নাম,
তুমি যখন বিদায় নিলে নীরব রহিলাম।
একলা ছিলেম কুয়ার ধারে নিমের ছায়াতলে,
কলস নিয়ে সবাই তখন পাড়ায় গেছে চলে।
আমায় তারা ডেকে গেল, ‘আয় গো বেলা যায়।’
কোন্ আলসে রইনু বসে কিসের ভাবনায়।।
পদধ্বনি শুনি নাইকো কখন তুমি এলে,
কইলে কথা ক্লান্তকন্ঠে– করুণচক্ষু মেলে–
‘তৃষাকাতর পান্থ আমি।’শুনে চমকে উঠে
জলের ধারা দিলেম ঢেলে তোমার করপুটে।
মর্মরিয়া কাঁপে পাতা, কোকিল কোথা ডাকে–
বাবলা ফুলের গন্ধ ওঠে পল্লীপথের বাঁকে।।
যখন তুমি শুধালে নাম পেলেম বড়ো লাজ–
তোমার মনে থাকার মতো করেছি কোন্ কাজ!
তোমায় দিতে পেরেছিলাম একটু তৃষার জল,
এই কথাটি আমার মনে রহিল সম্বল।
কুয়ার ধারে দুপুরবেলা তেমনি ডাকে পাখি,
তেমনি কাঁপে নিমের পাতা– আমি বসেই থাকি।।
তোমার চিবুক ছোঁবো, কালিমা ছোঁবো না
তোমার ওখানে যাবো, তোমার ভিতরে এক অসম্পূর্ণ যাতনা আছেন,
তিনি যদি আমাকে বলেন, তুই শুদ্ধ হ’ শুদ্ধ হবো
কালিমা রাখবো না!
এ ভ্রমণ আর কিছু নয়, কেবল তোমার কাছে যাওয়া
তোমার ওখানে যাবো; তোমার পায়ের নীচে পাহাড় আছেন
তিনি যদি আমাকে বলেন, তুই স্নান কর
পাথর সরিয়ে আমি ঝর্ণার প্রথম জলে স্নান করবো
কালিমা রাখবো না!
এ ভ্রমণ আর কিছু নয়, কেবল তোমার কাছে যাওয়া
এখন তোমার কাছে যাবো
তোমার ভিতরে এক সাবলীল শুশ্রূষা আছেন
তিনি যদি আমাকে বলেন, তুই ক্ষত মোছ আকাশে তাকা–
তোমার চিবুক ছোঁবো, কালিমা ছোঁবো না--আবুল হাসান
আমি ক্ষত মুছে ফেলবো আকাশে তাকাবো
আমি আঁধার রাখবো না!
এ ভ্রমণ আর কিছু নয়, কেবল তোমার কাছে যাওয়া
যে সকল মৌমাছি, নেবুফুল গাভীর দুধের সাদা
হেলেঞ্চা শাকের ক্ষেত
যে রাখাল আমি আজ কোথাও দেখি না– তোমার চিবুকে
তারা নিশ্চয়ই আছেন!
তোমার চিবুকে সেই গাভীর দুধের শাদা, সুবর্ণ রাখাল
তিনি যদি আমাকে বলেন, তুই কাছে আয় তৃণভূমি
কাছে আয় পুরনো রাখাল!
আমি কাছে যাবো আমি তোমার চিবুক ছোঁবো, কালিমা ছোঁবো না!
প্রস্থান
এখন তুমি কোথায় আছো কেমন আছো, পত্র দিয়ো৷
এক বিকেলে মেলায় কেনা খামখেয়ালী তাল পাখাটা
খুব নিশীথে তোমার হাতে কেমন আছে, পত্র দিয়ো৷
ক্যালেন্ডারের কোন পাতাটা আমার মতো খুব ব্যথিত
ডাগর চোখে তাকিয়ে থাকে তোমার দিকে, পত্র দিয়ো৷
কোন কথাটা অষ্টপ্রহর কেবল বাজে মনের কানে
কোন স্মৃতিটা উস্কানি দেয় ভাসতে বলে প্রেমের বানে
পত্র দিয়ো, পত্র দিয়ো৷
আর না হলে যত্ন করে ভুলেই যেয়ো, আপত্তি নেই৷
গিয়ে থাকলে আমার গেছে, কার কী তাতে?
আমি না হয় ভালোবেসেই ভুল করেছি ভুল করেছি,
নষ্ট ফুলের পরাগ মেখে
পাঁচ দুপুরের নির্জনতা খুন করেছি, কী আসে যায়?
এক জীবনে কতোটা আর নষ্ট হবে,
এক মানবী কতোটা আর কষ্ট দেবে!
Sunday, August 9, 2009
Sunday, July 19, 2009
মা গো ভাবনা কেন
কথা: গৌরিপ্রসন্ন মজুমদার
সুর: হেমন্ত মুখোপাধ্যায়
শিল্পী: হেমন্ত মুখোপাধ্যায়
গীতিকার :গৌরিপ্রসন্ন মজুমদার
মা গো ভাবনা কেন
আমরা তোমার শান্তিপ্রিয় শান্ত ছেলে
তবু শত্রু এলে অস্ত্র হাতে ধরতে জানি
তোমার ভয় নেই মা
আমরা প্রতিবাদ করতে জানি
আমরা হারবো না হারবো না
তোমার মাটি একটি কণাও ছাড়বো না
আমরা পাঁজর দিয়ে দুর্গ-ঘাঁটি গড়তে জানি
তোমার ভয় নেই মা
আমরা প্রতিবাদ করতে জানি
আমরা পরাজয় মানবো না
দুর্বলতায় বাঁচতে শুধু জানবো না
আমরা চিরদিনই হাসিমুখে মরতে জানি
তোমার ভয় নেই মা
আমরা প্রতিবাদ করতে জানি
আমরা অপমান সইবো না
ভীরুর মতো ঘরের কোণে রইবো না
আমরা আকাশ থেকে বজ্র হয় ঝরতে জানি
তোমার ভয় নেই মা
আমরা প্রতিবাদ করতে জানি
Monday, July 13, 2009
মাছি -নির্মলেন্দু গুণ
একটি মাছি নাকে,
একটি মাছি আমাকে চেনে
একটি চেনে তাকে।
আমাকে চেনে,তাকেও চেনে
সেই মাছিটি কই?
নাকেও নেই, বুকেও নেই
চোখের জলে ঐ।
যাত্রা-ভংগ
মন বাড়িয়ে ছুঁই,
দুইকে আমি এক করিনা;
এককে করি দুই।
হেমের মাঝে শুই না যবে
প্রেমের মাঝে শুই।
তুই কেমন করে যাবি?
পা বাড়ালেই পায়ের ছায়া,
আমাকেই তুই পাবি।
তবুও তুই বলিস যদি যাই,
দেখবি তোর সমুখে পথ নাই।
তখন আমি একটু ছোঁব
হাত বাড়িয়ে জড়াব তোর
বিদায় দুটি পায়ে,
তুই উঠবি আমার নায়ে
আমার বৈতরণী নায়ে।
নায়ের মাঝে বসব বটে,
না-এর মাঝে শোব;
হাত দিয়ে তো ছোঁবনা মুখ
দু:খ দিয়ে ছোঁব।
Tuesday, July 7, 2009
শচীন দেব বর্মনের অনেক বিখ্যাত গান এটি। আমার সবচেয়ে প্রিয় গান। শেয়ার করলাম লিরিক।
বর্ণে গন্ধে ছন্দে গীতিতে হৃদয়ে দিয়েছো দোলা
রঙেতে রাঙিয়া রাঙাইলে মোরে, একি তব হরি খেলা
তুমি যে ফাগুন রঙেরো আগুন, তুমি যে রসেরো ধারা
তোমার মাধুরি তোমার মদিরা করে মোরে দিশাহারা
মুক্তা যেমন শুক্তিরো বুকে তেমনি আমাতে তুমি
আমার পড়ানে প্রেমের বিন্দু তুমিই শুধু তুমি।।
….
প্রেমের অনলে জ্বালি যে প্রদ্বীপ সে দ্বীপেরো শিখা তুমি
জোনাকি পাখায় ঝিকিমিকি নেচে এরে কি নাচালে তুমি
আপন হারাই উদাসী প্রাণের লহো গো প্রেমাঞ্জলি
তোমারে রচিয়া ভরেছি আমার বাউল গানের ঝুলি
মুক্তা যেমন শুক্তিরো বুকে তেমনি আমাতে তুমি
আমার পড়ানে প্রেমের বিন্দু তুমিই শুধু তুমি।।
চমকি দেখিনু আমার প্রেমের জোয়াড়ো তোমারি মাঝে
হৃদয় দোলায়, দোলাও আমারে তোমারো হিয়ারি মাঝে
তোমারো প্রাণের পুলক প্রবাহ মিশিতে চাহে আমাতে
যপো মোর নাম গাহ মোর গান আমার একতারাতে
মুক্তা যেমন শুক্তিরো বুকে তেমনি আমাতে তুমি
আমার পড়ানে প্রেমের বিন্দু তুমিই শুধু তুমি।।
আজ সকালে ঘুম ভেংগে যায় একজোড়া ম্লান চোখের দৃষ্টির নীরবতায়। আমি আচ্ছন্ন এক অদ্ভুত মায়াজালে অনেককাল পরে আজ এই অনুভূতি। হদয়ের গভীরে ছোট্ট একটি ক্ষত নক্ষত
একজোড়া ম্লান চোখের দৃষ্টির নীরবতায়।
আমি আচ্ছন্ন এক অদ্ভুত মায়াজালে
অনেককাল পরে আজ এই অনুভূতি।
হদয়ের গভীরে ছোট্ট একটি ক্ষত
নক্ষত্রের মত বৃহত ঘন বেদনায়,
তোমার ম্লান চোখ ভেসে উঠে
ভোরের স্বপ্নে কষ্টে ফোটানো হাসি।
আমি আকুল হই সেই মর্মাহত হাসিতে তোমার
শীতল স্পর্শে সুখি করি তোমায়
কামনার কোন স্পন্দন নেই আমাতে।
শুধু গভীর শীতল ভালবাসা নিয়ে,
সেদিন অতি সহজে তাকালে তুমি
মৃদু হাসিতে জানালে তোমার ভালবাসা
তারপর আমাদের দুজনার চোখ
হারিয়ে গেল নীরবে
জীবনের জটিলতা পেরিয়ে
অন্য এক সুখি জীবনে।
যদি মন কাদে তুমি চলে এসো……
যদি মন কাদে তুমি চলে এসো, চলে এসো …এক বরষায়
এসো ঝরঝর বৃষ্টিতে… জলভরা দৃষ্টিতে
এসো কমল শ্যামল ছায়…চলে এসো, তুমি চলে এসো… এক বরষায়…যদি মন কাদে…যদিও তখন আকাশ থাকবে বৈরি, কদমগুচ্ছ হাতে নিয়ে আমি তৈরি,
উতলা আকাশ মেঘে মেঘে হবে কালো, ঝলকে ঝলকে নাচিবে বিজরী আলো
তুমি চলে এসো এক বরষায়……যদি মন কাদেনমিবে আধার বেলা ফুরাবার খনে, মেঘমল্লার বৃষ্টির মনে মনে …
কদমগুচ্ছ খোপায় জরায়ে দিয়ে,
জলভরা মাঠে নাচিব তোমায় নিয়ে…
চলে এসো, চলে এসো এক বরষায়…যদি মন কাদে……==========
nice song.
জীবন থেমে নেই
লিখেছেন: রোজ
প্রতিদিনের কর্মব্যস্ততা আর তোমার প্রেমাবেগআমাকে ক্লান্ত করে বৈ কি। তাই
আমার বিশ্রামের প্রয়েজন হয় সামান্য।
তোমার ছলনা আমাকে মর্মাহত করে —
তবু ও আমার জীবনটা থেমে নেই।
জীবনের সমস্যা আর তোমার প্রেমাভিনয়
আমাকে কষ্ট দেয় বৈ কি। কারণ—-
আমি বুঝতে পারি তোমার ছল।
তোমার নীচুতা আমাকে ব্যথিত করে —
তবুও আমার জীবনটা থেমে নেই।
জীবনের ব্যর্থতা আর তোমার ছলনা
আমাকে আশাহত করে বৈ কি। তবু
আমি বেচেঁ থাকি সব ভুলে।
তোমার দৈন্যতা আমাকে আঘাত করে–
তবুও আমার জীবনটা থেমে নেই।
জীবনের বিফলতা আর তোমার উচ্ছৃংলতা
আমাকে নিরুতসাহিত করে বৈ কি। অথচ
আমি জীবনে এমনটি আশা করিনি।
তোমার নিস্প্রভতা আমাকে হতোদ্যম করে —
তবুও আমার জীবনটা থেমে নেই।